শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে চাঁদপুরের ‘সেরা অদম্য নারী’ হলেন ঢাবি সহকারী অধ্যাপক রোমানা পারভীন
গাজীপুর প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রোমানা পারভীন শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ক্যাটাগরিতে চাঁদপুর জেলার ‘সেরা অদম্য নারী’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত হয়েছেন। মতলব উত্তর উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান রোমানাকে তাঁর অসামান্য শিক্ষাগত ও পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
স্কুলশিক্ষক আমির হোসেন মাস্টার এবং সিবরিনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে রোমানা সবার বড়। তিনি ছোটবেলা থেকেই মেধার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন। ছেংগারচর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি—উভয় পরীক্ষাতেই তিনি কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর—উভয় পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ (CGPA) নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
অসাধারণ একাডেমিক ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’, ‘বঙ্গদ্বীপ মহাস্থবির স্বর্ণপদক’ এবং ‘অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া স্বর্ণপদক’-এ ভূষিত হন। ২০২২ সালে তিনি একই বিভাগ থেকে "Socio-Economic Condition of Buddhists: Context Dhaka City" (বৌদ্ধদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা: ঢাকা শহরের প্রেক্ষাপট) শীর্ষক থিসিসের জন্য সফলভাবে এম.ফিল (M.Phil) ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাঁর মেধার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘ড. গণেশ চন্দ্র বড়ুয়া স্কলারশিপ’, ‘ইবিএল-ঢাবি স্কলারশিপ’ এবং ‘বিএনসিসি মেধা বৃত্তি’সহ বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক অনুদান ও বৃত্তি লাভ করেন।
রোমানা ২০১৯ সালে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পূর্ণকালীন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর মূল প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক এবং সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস কমিটি, ঢাবি রিসার্চ সোসাইটি এবং লিও ক্লাবের একজন সক্রিয় সদস্য। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি গবেষণার ক্ষেত্রেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। বিভিন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নাল, ম্যাগাজিন এবং সংবাদ মাধ্যমে তাঁর ২৫টিরও বেশি গবেষণাপত্র ও নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

