স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য দূর করতে 'জাতীয় স্বাস্থ্য কার্ড' চালু করছে সরকার: আইসিটি মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্রাম ও শহরের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য হ্রাস এবং প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার 'জাতীয় স্বাস্থ্য কার্ড' চালু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব এনাম।
চীনের শিআন শহরে আয়োজিত "ডিজিটাল অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট ইন্টিগ্রেশন ফর হেলথ - টুওয়ার্ডস এ নিউ কোঅপারেটিভ ইকোসিস্টেম অ্যালং দ্য সিল্ক রোড" শীর্ষক ফোরামে স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বিষয়ক এক অধিবেশনে বক্তৃতাকালে বুধবার তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, প্রস্তাবিত এই জাতীয় স্বাস্থ্য কার্ড চালু হলে চিকিৎসকরা দেশের যেকোনো প্রান্তে বসেই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল তথ্য মুহূর্তেই দেখতে পাবেন। এর ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি আরও দ্রুত, নিখুঁত এবং কার্যকর হবে।
এই প্রকল্পের পেছনের মূল লক্ষ্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সুবিধাই নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সরকার মানবাধিকার, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি প্রণয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
চীন সরকারের অর্থায়নে ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স (ডব্লিউআইসি) সচিবালয় কর্তৃক আয়োজিত এই সিল্ক রোড ফোরামে চীনের সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা, শানসি প্রদেশের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা একত্রিত হন। ২১ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চলা এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কম্বোডিয়া, আলজেরিয়া, জাম্বিয়া, কিউবা, নিকারাগুয়া, মরক্কো, সুদান, টিউনিশিয়া, রাশিয়া ও ব্রাজিল সহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, নীতি-নির্ধারক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন, যেখানে বেইজিংয়ের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ'-এর অধীনে স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ডিজিটালাইজেশনের ওপর মূল আলোকপাত করা হয়।

