ডার্ক মোড
Saturday, 08 August 2026
ePaper   
Logo
কালিয়াকৈরে হাই-টেক পার্কে প্রাণচাঞ্চল্য: গুগল, মেটা, টিকটকের বিনিয়োগ প্রস্তাব: আইসিটি মন্ত্রী

কালিয়াকৈরে হাই-টেক পার্কে প্রাণচাঞ্চল্য: গুগল, মেটা, টিকটকের বিনিয়োগ প্রস্তাব: আইসিটি মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফখরুল মাহবুব আনাম ঘোষণা করেছেন যে, কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে এবং গুগল, মেটা ও টিকটকের মতো বৈশ্বিক শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাব আসছে।

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা মূল্যায়নের লক্ষ্যে শনিবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় দেশের প্রথম হাই-টেক পার্ক পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

"মেড ইন বাংলাদেশ" উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সফটওয়্যার, অ্যাপস ও হার্ডওয়্যারের আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে মন্ত্রী ফখরুল মাহবুব আনাম জানান, 'জাতীয় সবুজ শিল্প নীতি'-র অধীনে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে এবং রাজস্ব ও অ-রাজস্ব সুবিধার মতো সুযোগ সৃষ্টির পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

হাই-টেক পার্কে জমি বা তৈরি স্পেস বরাদ্দ পাওয়া ৮৫টি প্রতিষ্ঠানের (যার মধ্যে ৭টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান) মধ্যে ৪০টি বর্তমানে উৎপাদনে বা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে রয়েছে, ২৮টি নির্মাণাধীন এবং ১৭টি শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু করতে যাচ্ছে। পার্কটিতে মোট বিনিয়োগের প্রস্তাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৬৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে এবং সরকার মৌলিক অবকাঠামো খাতে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করেছে। তাছাড়া চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাতটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

পার্কে বর্তমানে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, এটিএম ও ক্যাশ রিসাইক্লার মেশিন, ফাইবার-অপ্টিক কেবল এবং যানবাহন তৈরির পাশাপাশি আইওটি (IoT) ডিভাইস, রাউটার, সুইচ, সিসিটিভি সিস্টেম, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কিডনি ডায়ালিসিস মেশিন এবং কিয়স্কের প্রোডাকশন লাইন রয়েছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান একটি এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যেখানে গুগল, মেটা এবং টিকটকের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। পার্কটি পূর্ণাঙ্গভাবে বিকাশ লাভ করলে প্রায় ১ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অগ্রগতির প্রশংসার পাশাপাশি মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুত শেষ করা, নিরাপত্তা ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ জোরদার করা, নিরবচ্ছিন্ন ডুয়াল-লাইন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করতে জনবল সংকট নিরসনের মতো মূল চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। বিনিয়োগ আরও বাড়াতে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ও কর ছাড়, সেবাখাতে ভ্যাট সুবিধা, হাই-টেক পণ্যের পরিধি বৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন, সৌরশক্তি ও ইউপিএস ব্যাটারির মতো নতুন প্রযুক্তি খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনা কাঠামোর প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমানসহ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন