ডার্ক মোড
Saturday, 18 July 2026
ePaper   
Logo
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানুষ-কেন্দ্রিক জাতীয় এআই পলিসি তৈরি করছে বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানুষ-কেন্দ্রিক জাতীয় এআই পলিসি তৈরি করছে বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ মানবাধিকার, নৈতিকতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক বা শাসন কাঠামো তৈরিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন (ডব্লিউএআইসি) ২০২৬’ এর অংশ হিসেবে আজ শনিবার আয়োজিত "গ্লোবাল এআই গভর্ন্যান্স বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক"-এ দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই তথ্য জানান।

ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ডিজিটাল নীতিমালা এবং আইনি কাঠামোগুলোকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংস্কার করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই রূপান্তরের মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের কল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং একই সাথে প্রযুক্তির সাথে জড়িত সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো কমাতে শক্তিশালী শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় বাংলাদেশ একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘জাতীয় এআই নীতিমালা’ প্রণয়নে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই খাতে সরকারের প্রধান উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, সরকারি খাতে এআই ব্যবহারের নির্দেশিকা তৈরি এবং দায়িত্বশীল ডেটা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া সরকার এআই-ভিত্তিক শিক্ষা ও পাঠ্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং দেশজুড়ে বিকেন্দ্রীকৃত ‘এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বৈশ্বিক এআই শাসনের জন্য একটি রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনার প্রস্তাব করে মন্ত্রী চারটি মৌলিক অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন: নিরাপত্তা, সমতা, অভিযোজনযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডেটা সার্বভৌমত্ব এবং প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ফকির মাহবুব আনাম বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বাংলাদেশের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ যেন কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রতিফলন না হয়, বরং তা অবশ্যই মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং অন্তর্ভুক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে।

"উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এআই অংশীদারিত্ব" (AI Partnership for a Brighter Future) প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে, সম্মিলিত নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এআই-কে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে নিবিড় আলোচনার একটি অন্যতম মঞ্চ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

এই শীর্ষ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সংস্থা, শিল্পের শীর্ষ নেতা এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের পাশাপাশি ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারপ্রধান, মন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন (ডব্লিউএআইসি) ২০২৬’ চার দিনব্যাপী একটি বৈশ্বিক সম্মেলন যা ১৭ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন