ডার্ক মোড
Monday, 13 July 2026
ePaper   
Logo
যুক্তরাষ্ট্রের নাসা-য় সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিলেন বাংলাদেশি গবেষক ইব্রাহিম খলিল ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নাসা-য় সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিলেন বাংলাদেশি গবেষক ইব্রাহিম খলিল ভূঁইয়া

মুসাম্মৎ এম তামান্না, টেক্সাস, ইউএসএ

বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় মুহূর্তে, বিশিষ্ট যন্ত্রকৌশলী ও গবেষক ড. মো. ইব্রাহিম খলিল ভূঁইয়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র ‘জনসন স্পেস সেন্টার’-এ সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই মহাকাশ সংস্থায় ড. ভূঁইয়ার এই অন্তর্ভুক্তি মূলত স্ট্রাকচারাল ইন্টিগ্রিটি (অবকাঠামোগত অখণ্ডতা), উন্নত সেন্সর সিস্টেম এবং মেশিন লার্নিংয়ের সমন্বয়নের মতো দূরহ ও যুগান্তকারী গবেষণায় তাঁর অসামান্য কর্মজীবনেরই প্রতিফলন। উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর আগে তিনি ঢাকার ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি’ (বিইউবিটি)-এর শিক্ষক হিসেবে দেশের শিক্ষা খাতে অবদান রেখেছিলেন।

ড. ভূঁইয়া সম্প্রতি ২০২১ থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনা’ (ইউএসসি) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টর অব ফিলোসফি (পিএইচডি) ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তাঁর ডক্টরেট গবেষণার মূল বিষয় ছিল আল্ট্রাসনিক গাইডেড-ওয়েভ, নন-ডেসট্রাকটিভ ইভালুয়েশন (এনডিই) এবং আল্ট্রাসনিক টেস্টিং (ইউটি), তরঙ্গ প্রসারণ বিশ্লেষণ এবং আধুনিক স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিংয়ে মেশিন লার্নিং কাঠামোর সংমিশ্রণ। পিএইচডি করার আগে, তিনি ২০১৮ থেকে ২০২০ শিক্ষাবর্ষে ‘সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি এডওয়ার্ডসভিল’ থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৪.০০-এর মধ্যে ৪.০০ নিখুঁত সিজিপিএ নিয়ে মাস্টার অব সায়েন্স সম্পন্ন করেন। তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন, যেখানে তিনি মেধা তালিকায় ৩য় স্থান অধিকার করেছিলেন।

ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় গবেষণার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. ভূঁইয়া অবকাঠামোগত ত্রুটি বা খুঁত আগে থেকেই অনুমান ও চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গভীর দক্ষতা অর্জন করেছেন। তাঁর কাজের পরিধি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও একাডেমিক যৌথ প্রকল্পের সাথে জড়িত, যার মধ্যে অন্যতম হলো ‘ওয়েটকোট প্রজেক্ট’। এই প্রকল্পে তিনি বিশ্বখ্যাত প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান ‘রোলস রয়েস’ এবং জার্মানির ‘ফ্রাউনহোফার আইটিডব্লিউএম’-এর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে স্পর্শহীন প্রলেপের পুরুত্ব পরিমাপের কৌশল উদ্ভাবনে কাজ করেছেন।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ড. ভূঁইয়ার বহুমাত্রিক অবদান রয়েছে। তিনি অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় এবং আরও নিখুঁত করতে পাইটর্চ-ভিত্তিক মাল্টি-টাস্ক এবং ডিপ লার্নিং ফ্রেমওয়ার্কের সহ-উদ্ভাবন করেছেন। একই সাথে তিনি পিজেডটি সেন্সর অ্যারে এবং ল্যাবভিউ-ভিত্তিক ডেটা-অ্যাকুইজিশন ওয়ার্কফ্লোর নকশা ও প্রোটোটাইপ তৈরি করার পাশাপাশি উন্নত শনাক্তকরণ অ্যাপ্লিকেশনের জন্য বিশেষায়িত ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল ইমপেডেন্স স্পেকট্রোস্কোপি রাসায়নিক সেন্সর তৈরি করেছেন।

‘মেকানিক্যাল সিস্টেমস অ্যান্ড সিগন্যাল প্রসেসিং’-এর মতো উচ্চ-প্রভাবশালী জার্নালগুলোতে প্রকাশিত তাঁর অসংখ্য গবেষণাপত্র এবং ‘আমেরিকান সোসাইটি অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স’-এর মতো আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে তাঁর উপস্থাপনা তাঁকে এই ক্ষেত্রে অন্যতম শীর্ষ গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নাসা জনসন স্পেস সেন্টারে তাঁর এই পদার্পণ একটি বিশাল মাইলফলক। সেখানে স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং এবং উন্নত মডেলিংয়ে তাঁর দক্ষতা আগামী দিনের মহাকাশ অভিযান ও মহাকাশ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর এই অসাধারণ সাফল্য বাংলাদেশের উদীয়মান প্রকৌশলী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন