কৃষিভিত্তিক সৌরপ্রকল্পে (অ্যাগ্রিভোল্টাইক) কৃষক ও খাদ্য নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ পরিবেশমন্ত্রী মিন্টুর
স্টাফ রিপোর্টার
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বুধবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, অ্যাগ্রিভোল্টাইক বা কৃষিভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের অধিকার এবং পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে।
ঢাকার দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত "ন্যাশনাল অ্যাগ্রিভোল্টাইকস ওয়ার্কশপ: এক্সপ্লোরিং লোকাল অ্যাকশন মডেল ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ ইন বাংলাদেশ" শীর্ষক এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, অনাবাদি জমি নষ্ট না করে বাংলাদেশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের জন্য একই জমিতে বহুমুখী ব্যবহারের এই মডেলটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এক পথ উন্মোচন করে।
মন্ত্রী মিন্টু বলেন, "কৃষিভিত্তিক সৌরশক্তি এক প্রতিশ্রুতিশীল সমাধানের পথ দেখাচ্ছে, কারণ এতে সোলার ফটোভোল্টাইক সিস্টেম এবং কৃষি উৎপাদন একই জমিতে পরিচালনা করা সম্ভব।"
তিনি আরও বলেন, "সঠিকভাবে ডিজাইনকৃত এই ব্যবস্থা যেমন একদিকে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, অন্যদিকে শস্য চাষ অব্যাহত রাখা, বাষ্পীভবন কমানো, পানির সুষম ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের উৎস তৈরি করতে সাহায্য করবে।"
বাংলাদেশের 'নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫'-এ কৃষিভিত্তিক সৌরশক্তি বা অ্যাগ্রিভোল্টাইকের স্বীকৃতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জোর দেন যে, এসব প্রকল্পে যেন প্রকৃত কৃষি কাজ নিশ্চিত করা হয় এবং প্যানেলগুলোর ডিজাইন এমনভাবে নির্ধারিত হয় যা কোনোভাবেই ফসলের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
কৃষকদের এই মডেলের মূল কেন্দ্রে রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্ত্রী সতর্ক করে দেন, যাতে তাঁরা জমির অধিকার না হারান বা কেবল নামমাত্র সুবিধায় সীমিত না থাকেন। এর পরিবর্তে, সৌর সেচ, হিমাগার ও ফসল শুকানোর মতো বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক জীবিকা সুরক্ষিত করার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট অতিরিক্ত আয়ের সুব্যবস্থা রাখতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় জাতীয় কার্বন মার্কেট কাঠামো অনুসরণ করার পাশাপাশি সমবায় পদ্ধতি এবং 'জয়েন্ট ক্রেডিট মেকানিজম'-এর মাধ্যমে কার্বন অর্থায়ন সহ একটি শক্তিশালী আর্থিক ও ব্যবসায়িক মডেলের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়।
ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজিস (IGES) এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশ যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে পরিবেশ অধিদপ্তর, টেরা জাপান এবং ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন সহযোগিতা প্রদান করে। অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, জাপানি দূতাবাস, জাইকা (JICA), আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

