ডার্ক মোড
Monday, 28 September 2026
ePaper   
Logo
ঢাকা শহরে দখলের তাণ্ডব:  জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন এখন প্রশ্নের মুখে

ঢাকা শহরে দখলের তাণ্ডব: জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন এখন প্রশ্নের মুখে

বিশেষ প্রতিনিধি

রাজধানী ঢাকায় হঠাৎ করেই যেন বেপরোয়া দখলদারিত্ব, সশস্ত্র তাণ্ডব এবং লুটপাটের রাজত্ব শুরু হয়েছে।

অন্তবর্তীকালীন সরকার ইউনুসের আমলে শুরু হওয়া মব সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, খুন অপহরণ, রাজহানি , কিশোর সন্ত্রাস কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

অতি সম্প্রতি মিরপুরের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘রাড্ডা ক্লিনিক’ গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ও সংলগ্ন আবাসিক প্রকল্পে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও প্রকাশ্যে লুটপাটের ঘটনা গোটা দেশকে স্তম্ভিত করেছে।

দিনের আলোতে শত শত সশস্ত্র লোক নিয়ে হাসপাতাল বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এমন হামলা কেবল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডই নয়, বরং দেশের রাজধানী শহরের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে পড়ারই এক স্পষ্ট বার্তা।

একের পর এক ঘটনা ঘটে চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অকার্যকর ভূমিকা নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ও আবাসন এলাকায় ঘটনার দিন দফায় দফায় হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাট করা হলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়নি।

রাড্ডা ক্লিনিকের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দৃশ্যমান—আইনি জটিলতার অজুহাতে বা ক্ষমতার দাপটে এক ঘণ্টার মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো একটি জনকল্যাণমুখী চিকিৎসাকেন্দ্র।

জনমনে এখন প্রশ্ন একটাই—রাজধানীতে নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন কেন এত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে?

বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ পাওয়া সংবাদে এসব দখল ও তাণ্ডবের পেছনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপির স্থানীয় একশ্রেণির নেতাকর্মী এবং প্রভাবশালীদের নাম উঠে আসছে।

আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ঝুট ব্যবসা, ফুটপাত, পরিবহনের চাঁদা এবং জমি-ভবন দখলের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে যাচ্ছে, তা নিয়ে নানা মহলে চর্চা চলছে।

অপরাধীরা দলীয় নাম ব্যবহার করে বা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। সরকার বা দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে সুশাসনের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে দখলদারদের থামানো যাচ্ছে না।

অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ছাড় না দেওয়ার সরকারি ঘোষণা যদি বাস্তবে রূপ না নেয়, তবে এর সম্পূর্ণ দায়ভার এসে পড়বে বর্তমান সরকার ও শাসকদলের ওপরই।

শুধু মিরপুর বা ইসিবি চত্বরই নয়, রাজধানীর ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও পুরান ঢাকা অঞ্চলেও ভাসমান দখল ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নিত্যদিনের। এতে চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ।

যেকোনো দেশে বিনিয়োগের মূল শর্তই হলো স্থিতিশীলতা এবং সুরক্ষার গ্যারান্টি। কোনো উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী যদি দেখেন যে নিজের কষ্টে গড়ে তোলা স্টুডিও বা ক্লিনিকও নিরাপদে চালানো যায় না, তবে সেখানে নতুন বিনিয়োগের আশা করা অর্থহীন।

এই বিশৃঙ্খলা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
রাজধানীকে দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করতে না পারলে আইনের শাসনের কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট থাকবে না।

সরকারকে অবিলম্বে রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে সব হামলাকারী, দখলদার ও লুটপাটকারীকে চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা দূর করে তাদের পেশাদারত্ব ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিটি থানার সার্বিক নজরদারি বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকেও তাদের নাম ভাঙিয়ে চলা দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও দলীয়ভাবে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে। ঢাকা শহরের মানুষকে এই চরম আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত করতে না পারলে সুশাসন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সব উদ্যোগই ভেস্তে যাবে।

ঢাকা শহরে দখলের তাণ্ডব:  জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন এখন প্রশ্নের মুখে

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন