যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো যাবে না: পরিবেশমন্ত্রী মিন্টু
নিজস্ব প্রতিবেদক
গুরুতর পরিবেশ বিপর্যয় এবং বন উজাড় রোধে কোনো অবস্থাতেই ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা যাবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি।
আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির (বিবিএমওআই) নেতৃবৃন্দের সাথে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। ইটভাটা শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব, বায়ুর মান ব্যবস্থাপনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, "যেহেতু সনাতন ইটের সম্পূর্ণ বিকল্প ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি, তাই আমাদের মনোযোগ ইটভাটাগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার চেয়ে কীভাবে এগুলোর দূষণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়, সেদিকে হওয়া উচিত।" তিনি কার্বন নিঃসরণ কমাতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণের ওপর জোর দেন।
সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, উচ্চ সালফারযুক্ত নিম্নমানের কয়লার ব্যবহার বায়ুদূষণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। প্রতিমন্ত্রী এই শিল্পে ব্যবহৃত কয়লার মান নিয়ন্ত্রণে একটি কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিবিএমওআই-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান এবং সাধারণ সম্পাদক মোমিন উল্লাহ খানের নেতৃত্বে সমিতির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সভায় অংশ নেন। এতে বিভিন্ন জেলার কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও সহ-সভাপতিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমিতির নেতৃবৃন্দ মন্ত্রণালয়ের সামনে তাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন) ড. মো. সাইদুর রহমান এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

