তীব্র শিক্ষক ও কর্মী সংকটে কালুখালী সরকারি কলেজ, ব্যাহত পাঠদান
জুয়েল সরদার, কালুখালী (রাজবাড়ী)
রাজবাড়ীর কালুখালী সরকারি কলেজে তীব্র শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় কর্মচারী সংকটের কারণে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সাথে জনবল না থাকায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে কলেজের কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ। তবে এত সব প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বর্তমানে কলেজটিতে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে সামগ্রিক শিক্ষা পরিবেশ প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছে।
কলেজ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। এখানে সহকারী অধ্যাপকের অনুমোদিত নয়টি পদের মধ্যে পাঁচটিই খালি, কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। এ ছাড়া প্রভাষকদের ৩০টি পদের মধ্যে দুটি পদ শূন্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো গ্রন্থাগারিক (লাইব্রেরিয়ান) ও অফিস সহকারী নেই এবং দুটি নিরাপত্তা প্রহরীর পদও খালি পড়ে আছে। এর ওপর কম্পিউটার ল্যাব সহকারী আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ না করেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, যার ফলে কলেজের অতি প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা কর্মী না থাকায় চন্দনা নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই কলেজের কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে ২০০১ সালে ডিগ্রি কোর্স চালু করা হয় এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি করা হয়। এমন লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা ও কর্মী ঘাটতি সত্ত্বেও এখানকার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও খেলাধুলা—উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক চমৎকার পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে, যার সুবাদেই এই বছর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজের স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কলেজের এই সাফল্যের পেছনে এর দক্ষ নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রেখেছে। কালুখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ খান চলতি বছর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া কলেজের আরও তিনজন শিক্ষক নিজ নিজ ক্যাটাগরিতে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন। কলেজের এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে এবং শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে শূন্য পদগুলোতে অবিলম্বে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন নাগরিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

