অভিভাবক কমিটির পচা ডিম শনাক্ত; দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে (স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম) নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের অভিযোগ ওঠার পর এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত এবং কঠোর সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর উপজেলা শিক্ষা অফিস তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে গিয়ে একটি অন-সাইট তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে দেখা যায়, গত ১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিমই পচা এবং খাওয়ার অনুপযোগী ছিল। তবে বিদ্যালয়ে সদ্য গঠিত ‘অভিভাবক কমিটি’ ডিমগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের আগেই ত্রুটিপূর্ণ বা পচা হিসেবে হাতেনাতে শনাক্ত করে এবং বিষয়টি অবিলম্বে খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সুশীলন’-এর নজরে আনে।
পরবর্তীতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি এক ঘণ্টার মধ্যে পচা ডিমগুলো সরিয়ে নিয়ে সেখানে একদম তাজা ও উন্নত মানের ডিম প্রতিস্থাপন করে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পায়। এদিকে, ডিমের পাশাপাশি যে বানরুটি (Buns) সরবরাহ করা হয়েছিল, তা যথেষ্ট ভালো মানের ছিল বলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা লিখিত ও মৌখিক বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার বিষয়ে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাটি মূলত বিদ্যালয়গুলোতে অভিভাবক কমিটি গঠনের সাফল্যকেই প্রমাণ করে; কারণ খাবারের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভিভাবকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই এই কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছিল।

