ড. নূরে আলম: চাঁদপুরের পথিকৃৎ গবেষক, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা অনুষদের অন্তর্গত আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চাঁদপুর জেলার কৃতি সন্তান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ নূরে আলম।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি সৌদি আরবের মর্যাদাপূর্ণ কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন। কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, শিক্ষা ও গবেষণা এবং ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের অধীনে তিনিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, যিনি স্বনামধন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করার গৌরব অর্জন করেন।
১৯৮০ সালের ১ মার্চ চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাবুরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. নূরে আলম। তাঁর পিতা মরহুম মাওলানা মো. আবদুল হাই এবং মাতা মরহুমা মোসাম্মৎ শামসুন্নাহার।
ড. নূরে আলম ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল (এসএসসি সমমান) এবং ১৯৯৬ সালে আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভর্তি হন এবং ২০০১ সালে বিএ (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান এবং ২০০২ সালে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
স্নাতক শ্রেণীতে অসাধারণ শিক্ষাজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) মেধা বৃত্তি লাভ করেন। এছাড়া স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় কলা অনুষদের অধীনে সকল বিভাগ এবং নিজ বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের জন্য তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ 'অধ্যক্ষ সৈয়দ আবেদ আলী ও বেগম আফরোজা আবেদ আলী স্মৃতি স্বর্ণপদক' এবং 'কাজী নুরুস সোবহান স্মৃতি স্বর্ণপদক'-এ ভূষিত করা হয়।
ড. নূরে আলম ২০০৮ সালে তাঁর প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। এর আগে ২০১০ সালে তিনি একই বিভাগ থেকে আরবি ডায়ালেক্টোলজির (উপভাষা) ওপর এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৫ সালে ড. নূরে আলম সৌদি আরবের কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণার জন্য বৃত্তি লাভ করেন। ২০২৩ সালে তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে সফলতার সাথে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল "কনটেম্পোরারি অ্যারাবিক ইউসেজ ইন ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ইন বাংলাদেশ" (বাংলাদেশে ভাষা শিক্ষায় আধুনিক আরবি ব্যবহারের প্রয়োগ)।
শিক্ষা ও একাডেমিক গবেষণায় অবদানের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গবেষণা প্রবন্ধ ও শিক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা রচনা করেছেন তিনি।

