চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গতদের জন্য ইসলামিক রিলিফের ২.৪৭ কোটি টাকার জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় একটি দ্রুত জরুরি সাড়াদান কার্যক্রম শুরু করেছে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ (আইআরবি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এই অঞ্চলে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ বন্যা কবলিত হওয়ার পর, দুর্যোগের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আইআরবি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় ২,০০০ পরিবারের ৯,০০০ মানুষকে জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য সংস্থাটি ২ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে।
এই জরুরি সহায়তা প্যাকেজের আওতায় প্রতি পরিবারকে ৮,০০০ টাকা করে বহুমুখী নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি হাইজিন (স্বাস্থ্যসুরক্ষা) ও ডিগনিটি কিট বিতরণ এবং সুরক্ষা সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি পরিবারগুলোকে মর্যাদার সাথে তাদের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজনগুলো মেটানোর সক্ষমতা দেবে। এই সহায়তার ক্ষেত্রে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিধবা, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং নারীপ্রধান পরিবারসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ইসলামিক রিলিফের দলগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা নির্ধারণ, কমিউনিটির সদস্যদের সাথে পরামর্শ এবং স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি সমন্বয় করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। এই অংশীদারিত্বের ফলে ত্রাণ কার্যক্রমটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক হয়েছে এবং বিশেষ করে দুর্গম এলাকার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে তা সঠিকভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা গেছে।
ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রোগ্রাম প্রধান এনামুল হক সরকার বলেন, "ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ জীবন রক্ষাকারী জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই দুর্যোগ এবং পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া জুড়ে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে আমরা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও সংকটের মাত্রা এখনও প্রকট। প্রাথমিক হস্তক্ষেপের পরেও বিশাল একটি অংশ সহায়তার বাইরে রয়ে গেছে; হাজার হাজার পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, আয় বন্ধ হওয়া এবং মারাত্মকভাবে ব্যাহত জীবিকা নিয়ে লড়াই করছে। বিশেষ করে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত সম্পদের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে, কারণ অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি বন্যার কারণে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং সেগুলো মেরামত বা পুনর্নির্মাণের জন্য সহায়তা প্রয়োজন।
তাছাড়া, পানিবাহিত রোগের বিস্তার রোধ করতে নিরাপদ সুপেয় পানি এবং কার্যকর স্যানিটেশন ব্যবস্থার পুনঃস্থাপন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বোপরি, অনেক পরিবার তাদের গবাদি পশু, ফসল এবং উৎপাদনশীল সম্পদ হারানোয়, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংকট রোধ করতে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা জোরদার করতে ব্যাপক জীবিকা সহায়তার জোরালো প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

