ডার্ক মোড
Wednesday, 02 September 2026
ePaper   
Logo
ঢাকার ভূমি সেবা হয়রানিমুক্ত করতে ডিসি ফরিদার কঠোর নির্দেশ

ঢাকার ভূমি সেবা হয়রানিমুক্ত করতে ডিসি ফরিদার কঠোর নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকার ভূমি কার্যালয়গুলোতে সেবা নিতে গিয়ে কোনো নাগরিক যেন হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দালাল চক্রের শিকার না হন—তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।

মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

জনভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ ও দ্রুত ভূমি সেবা নিশ্চিত করা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে ডিসি ফরিদা খানম বলেন, "একজন নাগরিক রাষ্ট্রীয় সেবা পেতে ভূমি অফিসে আসেন, কোনো ব্যক্তির কাছে নয়। তাই তাদের যথাযথ সেবা প্রদান করা সরকারি কর্মচারীদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব ও নৈতিক কর্তব্য। ভূমি সেবায় কোনো ধরনের অবহেলা, অনিয়ম বা হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না।"

তিনি কর্মকর্তাদের যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা প্রদান শুরু করার নির্দেশ দেন এবং নামজারি, খতিয়ান ও মিউটেশনের মতো ভূমি সংক্রান্ত বিষয়গুলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তির তাগিদ দেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে জেলা প্রশাসক সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ঘুষ লেনদেন, ফাইল আটকে রাখা, অহেতুক বিলম্ব কিংবা দালালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এসব অপরাধে জড়িত থাকা কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূমি অফিসগুলোকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের সাথে সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা প্রদান করতে হবে। সেবার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি এবং সেবা দেওয়ার সময়সীমা সংক্রান্ত স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে হবে।

সেবাগ্রহীতাদের প্রতি মানবিক আচরণ করার ওপর জোর দিয়ে ফরিদা খানম বলেন, সাধারণ একজন মানুষের কাছে তার জমিই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। "ভূমি অফিসে এসে কোনো নাগরিক যেন অপমানিত বা হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে না যান," যোগ করেন তিনি।

সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ মোট দাবি ছিল ৮৪,৭০,৭২,২৮০ টাকা। এই লক্ষ্যের বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৩,৬৮,৪০,৭৮৬ টাকা—যা মোট দাবির ১১০.৬ শতাংশ।

এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক খাতের ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৬,১১,১১,১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির ইজারা মানি বাবদ ৮,৭৬,৮৬,১২৫ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে এই উল্লেখযোগ্য অর্জনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহশিলদার এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই সাফল্য কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতারই প্রতিফলন।

তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, "আমাদের লক্ষ্য কেবল ফাইল নিষ্পত্তি করা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। দালালদের মধ্যস্থতা ছাড়াই সাধারণ মানুষ যেন স্বচ্ছ ও সহজ উপায়ে ভূমি সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট চিত্রে ও হয়রানিমুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।"

সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ভূমি সেবা সহজীকরণ এবং জনভোগান্তি লাঘবের সার্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন