ডার্ক মোড
Monday, 19 October 2026
ePaper   
Logo
মন্তব্য প্রতিবেদন :  প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি: মন্ত্রিত্ব ও পদ রক্ষায় নেতাকর্মীদের জন্য কঠোর বার্তা

মন্তব্য প্রতিবেদন : প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি: মন্ত্রিত্ব ও পদ রক্ষায় নেতাকর্মীদের জন্য কঠোর বার্তা

বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটিই মূল আলোচনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আপসহীন ও কঠোর অবস্থান।

নিজের দলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা প্রভাবশালী নেতাকর্মী হোন না কেন, অনিয়ম, বিতর্ক বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে কাউকেই যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না, তা সম্প্রতি একের পর এক নেওয়া পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গত সেপ্টেম্বরে রাজধানীর মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় প্রধানমন্ত্রী তাকে সরাসরি পদত্যাগের নির্দেশ দেন।

গত ১ অক্টোবর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এরপর ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় একটি অভিযানের সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে উপস্থিত থাকার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে চরম বিতর্কের মুখে পড়েন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী ইশরাককেও পদত্যাগের নির্দেশ দেন, যা দেশজুড়ে এক প্রবল রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এর আগে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে জহির উদ্দিন স্বপনকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার ঘটনাও প্রমাণ করে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা মানেই স্থায়িত্বের নিশ্চয়তা নয়।

এই ধারাবাহিকতায় এখন নতুন করে আলোচনার তুঙ্গে উঠে এসেছেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী।

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের জন্য ৩৪২ কোটি টাকার ট্যাবলেট বা প্যাড কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ডকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে মন্ত্রীর ভাতিজার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ঘিরেও নানা অনিয়মের খবর সামনে আসছে, যার সঙ্গে তার স্ত্রী ও সাবেক কর্মকর্তার নামও জড়িয়েছে।

এর পাশাপাশি, প্রবল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত ও দায়িত্বহীন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোরতার বার্তা কেবল মন্ত্রিসভা বা দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো আমলাতন্ত্রেও।

প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক হাসপাতাল ও সরকারি দপ্তর পরিদর্শন, আমলাদের আশ্বাসের বাইরে গিয়ে সরাসরি জনগণের মুখ থেকে অভাব-অভিযোগের কথা শোনা এবং তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান প্রমাণ করে—নথিপত্রের অগ্রগতি নয়, মাঠপর্যায়ের প্রকৃত সেবাই হবে পারফরম্যান্সের মূল মাপকাঠি।

দলীয় পরিচয় বা মন্ত্রিত্বের প্রভাব কাউকেই পার পাওয়ার সুযোগ দেবে না—প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই সুনির্দিষ্ট বার্তা যারা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে পদ হারিয়েছেন বা চরম রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন।

আর যারা এখনো পরিস্থিতির স্পর্শকাতরতা বুঝতে পারছেন না, তাদের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে কঠিনতম পরীক্ষা। তবে কেবল রাজনৈতিক পদত্যাগের নির্দেশেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলেই সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান জনগণের কাছে পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন