ডার্ক মোড
Friday, 28 August 2026
ePaper   
Logo
এক কর্মকর্তার কাঁধে তিন উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা

এক কর্মকর্তার কাঁধে তিন উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা

রাসেল মিয়া, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার তিনটি উপজেলায় মাত্র একজন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি বাড়ছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতানকে নিজ উপজেলার পাশাপাশি আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। ফলে একই কর্মকর্তাকে একসঙ্গে তিন উপজেলার দাপ্তরিক ও শিক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসেই দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। বিশেষ করে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদগুলো ১৫ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে। এর পাশাপাশি আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ প্রায় এক বছর ধরে শূন্য। একই সময়ে ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের পদও শূন্য থাকায় দাপ্তরিক কাজেও নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান বলেন, একজনের পক্ষে তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করা খুবই কষ্টকর। সপ্তাহের পাঁচ দিন তালতলীতে অফিস করি। জরুরি কোনো কাজ থাকলে আমতলী ও পাথরঘাটায় যেতে হয়।

তিনি আরও বলেন, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাবলিক ও অন্যান্য পরীক্ষায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায় পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একজন করে একাডেমিক সুপারভাইজার রয়েছেন। তবে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কাজের পরিধি বেশি হওয়ায় একাডেমিক সুপারভাইজার দিয়ে কর্মকর্তার সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার সেলিম মাহমুদ বলেন, দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকলে অনেক কাজ সহজে করা যেত। ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের পদও প্রায় এক বছর ধরে শূন্য। ফলে অফিসের অনেক কাজ বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক নেতারা।

বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আমতলী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন কাজে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাসহ শূন্য পদগুলো পূরণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আমতলী উপজেলা শাখার সদস্য সচিব মো. রেজাউল করিম বলেন, আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি এক বছরের বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এতে উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

দ্রুত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার শূন্য পদসহ সংশ্লিষ্ট সব পদে জনবল নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

তিনটি উপজেলার দায়িত্ব একজন কর্মকর্তার ওপর থাকায় নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক কাজ, শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায় পৃথক মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও অন্যান্য পদে জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন