চৌমুহনী খাদ্য গুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা করিমের বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অভিযোগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, কমিশন বাণিজ্য, ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।এমন অভিযোগ তুলে ধরেছেন স্থানীয় ডিলার ও ভুক্তভোগীরা।
কৃষক নাজমুল হাসান জানান,বেগমগঞ্জ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আব্দুল করিম খাদ্য শস্য ক্রয়-বিক্রয় ও ডিলারদের বরাদ্দ বা বিল সংক্রান্ত কাজে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ বা কমিশন আদায় করেন। গুদামের কার্যক্রমে নানা স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে তিনি। এই আবদুল করিম প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে গুদাম এলাকায় ত্রাস ও একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছেন দীর্ঘ সময় ধরে ।
বিভিন্ন মহলের দাবি, এই ধরনের অনিয়ম চৌমুহনী খাদ্য বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। চৌমুহনী সরকারি পুকুর দখল করে তিনি মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কৃষক রহিমা খাতুন জানান, চৌমুহনী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিমের চৌমুহনী পদায়নে পর থেকে চৌমুহনী থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা ঘুষের মাধ্যমে সুবিধা নেন তিনি ।
ভুক্তভোগী রিয়া বেগম জানান, তিনি ধান-চাল সংগ্রহে কেজিপ্রতি ১০ পয়সা থেকে ১ টাকা ঘুষ নেন। ভুয়া কৃষকের নামে বিল উত্তোলন করেন। সাম্প্রতিক কৃষকের নামের আড়ালে নিজে কার্ড ব্যবহার করে সোনালী ব্যাংক থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন এমন তথ্য উঠে আসে।
আরেক কৃষক তাসলিমা খাতুন জানান,ওই কর্মকর্তা আবদুল করিম পচা-পুরনো চাল বিতরণ (ওএমএস, ভিজিএফে)কে নতুন বস্তা কেনার নামে পুরানো বস্তা কিনে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সাম্প্রতিক মানহীন পচা পুরাতন চাউল চট্টগ্রামের হালি শহরের প্রেরণ করলে সিএসডি থেকে তা ফেরত আসে। এতে সরকারে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। সরকারি অর্থ ক্ষতি সাধন হয়।
ভুক্তভোগী রিয়া বেগম জানান,আবদুল করিম অবৈধ অর্থ উপার্জন করে গাড়ি, বাড়ি, বিলাসী জীবনযাপন করেন। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পএিকায় অনিয়ম ও দূর্ণীতি সংবাদ প্রকাশিত হয়। গুদামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্ণীতি করে ডিলার পয়েন্ট থেকে চাঁদা আদায় করছেন। আমন-বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহে নিম্নমানের পণ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত সংগ্রহ দেখিয়ে আত্মসাৎ, পচা চাল বিতরণ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
নোয়াখালী জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো.আসিফ পারভেজ মুঠোফোনে জানান, সুষ্ঠু তদন্ত মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. খবির উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, অভিযোগে বিষয়ে আমরা দেখবেন।
চৌমুহনী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিমের বিরুদ্ধে কৃষক হয়রানি, ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, ও বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য জানতে একাধিক বার ফোন করা হলে ও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

