ডার্ক মোড
Monday, 27 July 2026
ePaper   
Logo
ঘুষের অভিযোগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগের কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ

ঘুষের অভিযোগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগের কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ

স্টাফ রিপোর্টার

ঘুষ ও নানা অনিয়মের অভিযোগের মুখে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ প্রদান শাখার কর্মকর্তা আবু সালেহ পাটোয়ারীকে তাত্ক্ষণিকভাবে নরসিংদী জেলা কার্যালয়ে বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে। রোববার জারীকৃত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

হালাল সনদ প্রদান প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পর এই পদক্ষেপ নেয় কর্তৃপক্ষ।

সূত্রমতে, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত "হালাল ফর এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন" শীর্ষক এক কর্মশালায় শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা হালাল সনদ পেতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ঘুষ, হয়রানি ও অপ্রয়োজনীয় শর্ত আরোপের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কর্মশালায় প্রাণ, আকিজ, বোম্বে সুইটস, বেঙ্গল মিট এবং ইজি প্রসেস ফুডসের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অভিযোগ ওঠার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মহিবুল্লাহিল বাকী বিষয়টি প্রাথমিক পর্যালোচনার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে নরসিংদী জেলা কার্যালয়ে স্ট্যান্ড রিলিজ করেন। অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর্মশালায় বোম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার খুরশিদ আহমেদ ফরহাদ অভিযোগ করেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই থেকে হালাল সনদ পেতে নির্ধারিত ফি ছাড়াও বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক খরচ করতে হয়। তাঁর ভাষায়, সনদটি হাসিল করতে গিয়ে অনেক অ-হালাল কাজের আশ্রয় নিতে হয়, যা মূলত ঘুষ লেনদেনকেই নির্দেশ করে। বিসিআই পরিচালক ও ইজি প্রসেস ফুডসের চেয়ারম্যান জিয়া হায়দার মিঠু অভিযোগ করেন, পরিদর্শনের অজুহাতে যাতায়াত ব্যবস্থা, আপ্যায়ন এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়।

ব্যবসায়ী নেতারা অভিযোগ করেন যে, সরকারি নিয়মে পরিদর্শকদের সম্মানীয় ও টিএ/ডিএ নির্ধারিত থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। অনলাইন পরিদর্শন সম্পন্ন হওয়ার পরও ফি দাবি করা এবং সনদ ইস্যুর পূর্বে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও সিইও মোহাম্মদ হাসান আরিফ উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে হালাল পণ্যের অর্থনীতির আকার বর্তমানে ৫.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত সনদ ব্যবস্থা চালু করতে পারলে বাংলাদেশ এ খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করতে পারে। বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে হালাল পণ্য রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলার। একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একক হালাল সনদ ব্যবস্থা গঠন করা গেলে দেশের রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রার আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের একক হালাল সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি জানান।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন