ডার্ক মোড
Monday, 17 August 2026
ePaper   
Logo
ইলিশ রক্ষায় মডেল ‘বরগুনা’

ইলিশ রক্ষায় মডেল ‘বরগুনা’

 

সাইদুল ইসলাম মন্টু

নদীমাতৃক বাংলাদেশের জলের উজ্জ্বল শস্য ইলিশ রক্ষায় তৃনমূল পর্যায়ের একটি ছোট্ট উদ্যোগ বরগুনার ‘স্বেচ্ছাসেবক মডেল’ অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। এ কার্যক্রমে জড়িতরা ব্যক্তি স্বার্থে নয় জাতীয় স্বার্থে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে জাতীয় সম্পদ ইলিশের উন্নয়নে অবদান রাখছে। দেশ ও জাতীর কল্যানে এর স্বীকৃতি স্বরুপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরের ১৮ জুলাই পুরুস্কৃত করেছেন।
ইলিশ শুধু আমাদের জাতীয় মাছই নয়, অধিকন্ত ইলিশ রফতানিতে প্রচুর অর্থ আয় হয় বিধায় ইলিশ প্লাটিনাম খনিজ তুল্য। দেশের প্রাণিজ আমিষের উৎস, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ও হৃদরোগ প্রতিরোধক ইলিশ মাছ রফতানি বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১ ভাগ বৃদ্ধি করেছে। তাই ইলিশের গুরুত্ব কতটুকু অপরিসীম বলার অপেক্ষা রাখে না। মৎস্য সম্পদের মধ্যে এককভাবে ইলিশের অবদান সবচেয়ে বেশি কিন্ত ইলিশ সম্পদ রক্ষায় মৎস্য বিভাগের জনবলের স্বল্পতা রয়েছে। এ কারনে সরকারের দায়িত্বশীল এ প্রতিষ্ঠানটির সবকিছু সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইলিশ সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ ফলপ্রসু হয়না।
বিশেষ করে প্রতি বছরের ন্যায় এ বারেও মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ইলিশের প্রজনন মৌসুম চিহ্নিত করে ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২দিন ইলিশ শিকার, আহরণ, বাজারজাতকরণ, বিক্রি ও পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে। এত কিছুর মধ্যেও কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞা না মেনে অবৈধ জালের ব্যবহার করে ইলিশের ব্যপক ক্ষতি সাধন করছে। ফলে বিভিন্নস্থানে নদীতে অভিযান চালিয়ে জেলে- জাল আটক, আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা এক ধরনের বাধ্য হয়েই আইন প্রয়োগ করতে হয়।
এ প্রেক্ষাপটে ‘আমাদের সম্পদ, আমাদের দায়িত্ব’-এ শ্লোগান ধারন করে দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে ইলিশ রক্ষায় কমিউনিটি ভিত্তিক কাজ করে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে স্থানীয়ভাবে গঠিত এই স্বেচ্ছাসেবকরা।পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে জাতীয় সম্পদ ইলিশের উন্নয়নে অবদান রাখছে এসব স্বেচ্ছাসেবকরা।যা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সাড়া ফেলেছে দেশে। মা ইলিশ সংরক্ষন অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু এ উপজেলার ৪২ কিলোমিটার বিষখালী নদী পথে মৎস্য বিভাগের জনবল সংকটে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে উপজেলা মৎস্য অফিস স্থানীয়ভাবে ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করে কার্যক্রম কে এগিয়ে নিচ্ছেন।
‘ ইলিশ রক্ষায় বেতাগী স্বেচ্ছাসেবক মডেল’ কাজ শুরুর আগে মৎস্য বিভাগের অভিযান চলাকালে বিষখালী নদীর একদিক থেকে অভিযানে নামলে অন্যদিক অনিরাপদ হয়ে পড়ত আর এখন স্বেচ্ছাসেবকদল থাকায় নদীতে নামার কেউ সাহস দেখায় না। অভিযান শুরু হলেই বিভিন্ন স্থানে খবর পৌঁছানোর কারনে ভয়ে সকলেই সাবধান ও সতর্ক হয়ে যায়। ফলে অভিযান সফলতা পেয়েছে। এখন নিষিদ্ধ সময় দিনে-রাতে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবকদের পাহারা থাকায় কেউ আইনভঙ্গ করার দু:সাহস পায়না। পূর্বে নিষিদ্ধ সময় আইনভঙ্গ করে ইলিশ নিধনে জেলেরা মেতে উঠত সেখানে আইন মানার ক্ষেত্রে জেলেদের প্রায় শতভাগ সফলতা ও এ এলাকায় মা-ইলিশ নিধন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
শুধু তাই নয়, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় স্থানীয়ভাবে গঠিত এই স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতার ফলে অভিযান চলাকালীন যে কোন সময় যে কোন স্থানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া সহজতর হয়েছে। নদীতে অভিযান চালিয়ে জেলে- জাল আটক, জেল-জরিমানার আগে-ভাগে আইন প্রয়োগ নয়, এর চেয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সচেতনতাবোধ তৈরি করে অবৈধভাবে মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে পারাটা বেশি কার্যকরি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে স্থানীয় মানুষ তারা নিজেরাই কমিউনিটির সম্পদ রক্ষা করতে পারছে।
তাদের তৎপরতার কারনে জেলেদের আইন সম্পর্কে অবহিতকরণ, আগাম সরকারি বার্তা পৌঁছানো, সরকারি আইনের বাস্তবায়ন ও নদীতে পাহারা প্রদানে সহযোগিতা এবং জেলেরা নদীতে না নামায় বিষখালী নদীতে এবারে প্রচুর ইলিশ পরবে বলে স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করছে। পাশাপাশি এসব স্বেচ্ছাসেবকরা নিজেরাও প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাই এ উদ্ভাবনটি পুরস্কারের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা থেকেও স্বচক্ষে এই কার্যক্রম দেখতে এসেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার। তিনি এ কার্যক্রম দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তার অভিব্যক্তি এরকম ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে ‘বেতাগী মডেল’ নি:সন্দেহে একটি কার্যকর উদ্ভাবন। যা ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্রের অন্যান্য জেলাধীন এলাকার জন্যও সমান উপযোগী। এর সফলতা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় এটি খুবই ইতিবাচক দিক। জেলেরা অনেকেই এখন বুঝতে পারছে- মা ইলিশ ও জাটকা সঠিকভাবে সুরক্ষা করতে পারলে বর্ধিত হারে ইলিশ উৎপাদনের সুফল তারা নিজেরাই ভোগ করতে পারবে। এ জন্য তারা সংঘবদ্ধ হয়ে মা ইলিশ রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। ইতোধ্যে বরিশাল বিভাগে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কর্মকর্তা নির্দেশনা দিয়েছেন ।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করতেই হয় ইলিশ সম্পদ সংরক্ষন ও উন্নয়নে ‘বেতাগী স্বেচ্ছাসেবক মডেল’ এখন একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। যা মানুষকে সচেতন ও জাগ্রত করে উদাহরণ তৈরি করেছে। স্থানীয় জেলেদের মাঝে দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তন এনে দিয়েছে । জেলেরা অনেকেই এখন বুঝতে পারছে সঠিকভাবে ইলিশ সম্পদ সুরক্ষা করতে পারলে সুফল তারা নিজেরাই ভোগ করতে পারবেন। স্বেচ্ছাসেবকরা পারিবারিকভাবে কেউ স্বচ্ছল নয়। তার পরেও বিনা পারিশ্রমিকে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে উৎসাহের সাথে ইলিশ রক্ষায় কাজ করে সারাদেশে অনুকরণীয় হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরাও নদীর মানুষ হিসেবে ইলিশ সম্পদ রক্ষার কাজে সম্পৃক্ত হতে পারায় অত্যন্ত খুশি। সংকটের মঝেও অসীম ব্রত নিয়ে আগামীতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এমনই অভিব্যক্তি তাদের চোখেমুখে ।
তবে কষ্টের কথা লাইট, রেইন কোটর্, ছাতা, লাইফ জ্যাকেট, ভাতা প্রাপ্তি, প্রশিক্ষনের অভাব ও উচ্চ পর্যায়ে ‘স্বেচ্ছাসেবক’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অনিশ্চয়তাসহ দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাওয়ায় সকলের সহযোগিতা ও সহানুভূতি প্রয়োজন । বিকল্প কর্মসংস্থানের তালিকায় যাদের নাম নেই তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত এবং ভিজিএফ খাদ্য সহায়তার পরিমান বাড়ানো দরকার।
বর্তমান সরকারের ইলিশ রক্ষায় নানা মুখী উদ্যোগ সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। যা খুবই আশান্বিত করছে। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ শুধু প্রথমই থাকবে না, উৎপাদন দিনে দিনে আরও বাড়বে। তবে এর আড়ালে কেউ যাতে অপতৎপরতা না চালাতে পারে সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
এক তথ্য মতে দেশের সারে চার লাখ জেলে পরিবার এবং আরও প্রায় ৩০ লাখ লোক বাণিজ্যিকভাবে ইলিশের ওপর নির্ভরশীল অথচ বিশ্বের অন্যতম প্রধান ইলিশ উৎপাদনকারী দেশে আশির দশক থেকে মারাত্মক ইলিশ উৎপাদন কমতে থাকে প্রজনন মৌসুমে মা- ইলিশ শিকারের কারণে। মৎস্য গবেষনা কেন্দ্র ও মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রজনন মৌসুমে নির্ধারিত সময়ে মা- ইলিশ নিধন নিষিদ্ধ করায় ২০০৯ সালের পর ইলিশ উৎপাদন বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে দেড় লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ২০১২-১৩ সালেও যেখানে তিন লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, সে উৎপাদন ২০১৭-১৮ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন।
২০২৩ সালের মধ্যে ইলিশ উৎপাদন ১০ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে সারাদেশে এ ধরনের আরো নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহন করে এসব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। জেলেরা নিজেরাই যখন স্বতস্ফুর্তভাবে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন তখন জলের উজ্বল শস্য ইলিশ অনিবার্য কারনেই আরো উজ্জ্বলতর হয়ে উঠবে। লেখক: গণমাধ্যম ও উন্নয়ন কর্মি।

 


ইলিশ রক্ষায় মডেল ‘বরগুনা’

সাইদুল ইসলাম মন্টু

নদীমাতৃক বাংলাদেশের জলের উজ্জ্বল শস্য ইলিশ রক্ষায় তৃনমূল পর্যায়ের একটি ছোট্ট উদ্যোগ বরগুনার ‘স্বেচ্ছাসেবক মডেল’ অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। এ কার্যক্রমে জড়িতরা ব্যক্তি স্বার্থে নয় জাতীয় স্বার্থে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে জাতীয় সম্পদ ইলিশের উন্নয়নে অবদান রাখছে। দেশ ও জাতীর কল্যানে এর স্বীকৃতি স্বরুপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরের ১৮ জুলাই পুরুস্কৃত করেছেন।
ইলিশ শুধু আমাদের জাতীয় মাছই নয়, অধিকন্ত ইলিশ রফতানিতে প্রচুর অর্থ আয় হয় বিধায় ইলিশ প্লাটিনাম খনিজ তুল্য। দেশের প্রাণিজ আমিষের উৎস, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ও হৃদরোগ প্রতিরোধক ইলিশ মাছ রফতানি বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১ ভাগ বৃদ্ধি করেছে। তাই ইলিশের গুরুত্ব কতটুকু অপরিসীম বলার অপেক্ষা রাখে না। মৎস্য সম্পদের মধ্যে এককভাবে ইলিশের অবদান সবচেয়ে বেশি কিন্ত ইলিশ সম্পদ রক্ষায় মৎস্য বিভাগের জনবলের স্বল্পতা রয়েছে। এ কারনে সরকারের দায়িত্বশীল এ প্রতিষ্ঠানটির সবকিছু সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইলিশ সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ ফলপ্রসু হয়না।
বিশেষ করে প্রতি বছরের ন্যায় এ বারেও মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ইলিশের প্রজনন মৌসুম চিহ্নিত করে ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২দিন ইলিশ শিকার, আহরণ, বাজারজাতকরণ, বিক্রি ও পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে। এত কিছুর মধ্যেও কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞা না মেনে অবৈধ জালের ব্যবহার করে ইলিশের ব্যপক ক্ষতি সাধন করছে। ফলে বিভিন্নস্থানে নদীতে অভিযান চালিয়ে জেলে- জাল আটক, আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা এক ধরনের বাধ্য হয়েই আইন প্রয়োগ করতে হয়।
এ প্রেক্ষাপটে ‘আমাদের সম্পদ, আমাদের দায়িত্ব’-এ শ্লোগান ধারন করে দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে ইলিশ রক্ষায় কমিউনিটি ভিত্তিক কাজ করে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে স্থানীয়ভাবে গঠিত এই স্বেচ্ছাসেবকরা।পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে জাতীয় সম্পদ ইলিশের উন্নয়নে অবদান রাখছে এসব স্বেচ্ছাসেবকরা।যা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সাড়া ফেলেছে দেশে। মা ইলিশ সংরক্ষন অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু এ উপজেলার ৪২ কিলোমিটার বিষখালী নদী পথে মৎস্য বিভাগের জনবল সংকটে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে উপজেলা মৎস্য অফিস স্থানীয়ভাবে ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করে কার্যক্রম কে এগিয়ে নিচ্ছেন।
‘ ইলিশ রক্ষায় বেতাগী স্বেচ্ছাসেবক মডেল’ কাজ শুরুর আগে মৎস্য বিভাগের অভিযান চলাকালে বিষখালী নদীর একদিক থেকে অভিযানে নামলে অন্যদিক অনিরাপদ হয়ে পড়ত আর এখন স্বেচ্ছাসেবকদল থাকায় নদীতে নামার কেউ সাহস দেখায় না। অভিযান শুরু হলেই বিভিন্ন স্থানে খবর পৌঁছানোর কারনে ভয়ে সকলেই সাবধান ও সতর্ক হয়ে যায়। ফলে অভিযান সফলতা পেয়েছে। এখন নিষিদ্ধ সময় দিনে-রাতে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবকদের পাহারা থাকায় কেউ আইনভঙ্গ করার দু:সাহস পায়না। পূর্বে নিষিদ্ধ সময় আইনভঙ্গ করে ইলিশ নিধনে জেলেরা মেতে উঠত সেখানে আইন মানার ক্ষেত্রে জেলেদের প্রায় শতভাগ সফলতা ও এ এলাকায় মা-ইলিশ নিধন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
শুধু তাই নয়, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় স্থানীয়ভাবে গঠিত এই স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতার ফলে অভিযান চলাকালীন যে কোন সময় যে কোন স্থানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া সহজতর হয়েছে। নদীতে অভিযান চালিয়ে জেলে- জাল আটক, জেল-জরিমানার আগে-ভাগে আইন প্রয়োগ নয়, এর চেয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সচেতনতাবোধ তৈরি করে অবৈধভাবে মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে পারাটা বেশি কার্যকরি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে স্থানীয় মানুষ তারা নিজেরাই কমিউনিটির সম্পদ রক্ষা করতে পারছে।
তাদের তৎপরতার কারনে জেলেদের আইন সম্পর্কে অবহিতকরণ, আগাম সরকারি বার্তা পৌঁছানো, সরকারি আইনের বাস্তবায়ন ও নদীতে পাহারা প্রদানে সহযোগিতা এবং জেলেরা নদীতে না নামায় বিষখালী নদীতে এবারে প্রচুর ইলিশ পরবে বলে স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করছে। পাশাপাশি এসব স্বেচ্ছাসেবকরা নিজেরাও প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাই এ উদ্ভাবনটি পুরস্কারের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা থেকেও স্বচক্ষে এই কার্যক্রম দেখতে এসেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার। তিনি এ কার্যক্রম দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তার অভিব্যক্তি এরকম ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে ‘বেতাগী মডেল’ নি:সন্দেহে একটি কার্যকর উদ্ভাবন। যা ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্রের অন্যান্য জেলাধীন এলাকার জন্যও সমান উপযোগী। এর সফলতা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় এটি খুবই ইতিবাচক দিক। জেলেরা অনেকেই এখন বুঝতে পারছে- মা ইলিশ ও জাটকা সঠিকভাবে সুরক্ষা করতে পারলে বর্ধিত হারে ইলিশ উৎপাদনের সুফল তারা নিজেরাই ভোগ করতে পারবে। এ জন্য তারা সংঘবদ্ধ হয়ে মা ইলিশ রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। ইতোধ্যে বরিশাল বিভাগে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কর্মকর্তা নির্দেশনা দিয়েছেন ।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করতেই হয় ইলিশ সম্পদ সংরক্ষন ও উন্নয়নে ‘বেতাগী স্বেচ্ছাসেবক মডেল’ এখন একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। যা মানুষকে সচেতন ও জাগ্রত করে উদাহরণ তৈরি করেছে। স্থানীয় জেলেদের মাঝে দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তন এনে দিয়েছে । জেলেরা অনেকেই এখন বুঝতে পারছে সঠিকভাবে ইলিশ সম্পদ সুরক্ষা করতে পারলে সুফল তারা নিজেরাই ভোগ করতে পারবেন। স্বেচ্ছাসেবকরা পারিবারিকভাবে কেউ স্বচ্ছল নয়। তার পরেও বিনা পারিশ্রমিকে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে উৎসাহের সাথে ইলিশ রক্ষায় কাজ করে সারাদেশে অনুকরণীয় হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরাও নদীর মানুষ হিসেবে ইলিশ সম্পদ রক্ষার কাজে সম্পৃক্ত হতে পারায় অত্যন্ত খুশি। সংকটের মঝেও অসীম ব্রত নিয়ে আগামীতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এমনই অভিব্যক্তি তাদের চোখেমুখে ।
তবে কষ্টের কথা লাইট, রেইন কোটর্, ছাতা, লাইফ জ্যাকেট, ভাতা প্রাপ্তি, প্রশিক্ষনের অভাব ও উচ্চ পর্যায়ে ‘স্বেচ্ছাসেবক’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অনিশ্চয়তাসহ দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাওয়ায় সকলের সহযোগিতা ও সহানুভূতি প্রয়োজন । বিকল্প কর্মসংস্থানের তালিকায় যাদের নাম নেই তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত এবং ভিজিএফ খাদ্য সহায়তার পরিমান বাড়ানো দরকার।
বর্তমান সরকারের ইলিশ রক্ষায় নানা মুখী উদ্যোগ সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। যা খুবই আশান্বিত করছে। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ শুধু প্রথমই থাকবে না, উৎপাদন দিনে দিনে আরও বাড়বে। তবে এর আড়ালে কেউ যাতে অপতৎপরতা না চালাতে পারে সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
এক তথ্য মতে দেশের সারে চার লাখ জেলে পরিবার এবং আরও প্রায় ৩০ লাখ লোক বাণিজ্যিকভাবে ইলিশের ওপর নির্ভরশীল অথচ বিশ্বের অন্যতম প্রধান ইলিশ উৎপাদনকারী দেশে আশির দশক থেকে মারাত্মক ইলিশ উৎপাদন কমতে থাকে প্রজনন মৌসুমে মা- ইলিশ শিকারের কারণে। মৎস্য গবেষনা কেন্দ্র ও মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রজনন মৌসুমে নির্ধারিত সময়ে মা- ইলিশ নিধন নিষিদ্ধ করায় ২০০৯ সালের পর ইলিশ উৎপাদন বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে দেড় লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ২০১২-১৩ সালেও যেখানে তিন লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, সে উৎপাদন ২০১৭-১৮ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন।
২০২৩ সালের মধ্যে ইলিশ উৎপাদন ১০ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে সারাদেশে এ ধরনের আরো নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহন করে এসব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। জেলেরা নিজেরাই যখন স্বতস্ফুর্তভাবে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন তখন জলের উজ্বল শস্য ইলিশ অনিবার্য কারনেই আরো উজ্জ্বলতর হয়ে উঠবে। লেখক: গণমাধ্যম ও উন্নয়ন কর্মি।

 


ইলিশ রক্ষায় মডেল ‘বরগুনা’

সাইদুল ইসলাম মন্টু

নদীমাতৃক বাংলাদেশের জলের উজ্জ্বল শস্য ইলিশ রক্ষায় তৃনমূল পর্যায়ের একটি ছোট্ট উদ্যোগ বরগুনার ‘স্বেচ্ছাসেবক মডেল’ অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। এ কার্যক্রমে জড়িতরা ব্যক্তি স্বার্থে নয় জাতীয় স্বার্থে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে জাতীয় সম্পদ ইলিশের উন্নয়নে অবদান রাখছে। দেশ ও জাতীর কল্যানে এর স্বীকৃতি স্বরুপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরের ১৮ জুলাই পুরুস্কৃত করেছেন।
ইলিশ শুধু আমাদের জাতীয় মাছই নয়, অধিকন্ত ইলিশ রফতানিতে প্রচুর অর্থ আয় হয় বিধায় ইলিশ প্লাটিনাম খনিজ তুল্য। দেশের প্রাণিজ আমিষের উৎস, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ও হৃদরোগ প্রতিরোধক ইলিশ মাছ রফতানি বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১ ভাগ বৃদ্ধি করেছে। তাই ইলিশের গুরুত্ব কতটুকু অপরিসীম বলার অপেক্ষা রাখে না। মৎস্য সম্পদের মধ্যে এককভাবে ইলিশের অবদান সবচেয়ে বেশি কিন্ত ইলিশ সম্পদ রক্ষায় মৎস্য বিভাগের জনবলের স্বল্পতা রয়েছে। এ কারনে সরকারের দায়িত্বশীল এ প্রতিষ্ঠানটির সবকিছু সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইলিশ সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ ফলপ্রসু হয়না।
বিশেষ করে প্রতি বছরের ন্যায় এ বারেও মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ইলিশের প্রজনন মৌসুম চিহ্নিত করে ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২দিন ইলিশ শিকার, আহরণ, বাজারজাতকরণ, বিক্রি ও পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে। এত কিছুর মধ্যেও কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞা না মেনে অবৈধ জালের ব্যবহার করে ইলিশের ব্যপক ক্ষতি সাধন করছে। ফলে বিভিন্নস্থানে নদীতে অভিযান চালিয়ে জেলে- জাল আটক, আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা এক ধরনের বাধ্য হয়েই আইন প্রয়োগ করতে হয়।
এ প্রেক্ষাপটে ‘আমাদের সম্পদ, আমাদের দায়িত্ব’-এ শ্লোগান ধারন করে দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে ইলিশ রক্ষায় কমিউনিটি ভিত্তিক কাজ করে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে স্থানীয়ভাবে গঠিত এই স্বেচ্ছাসেবকরা।পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে জাতীয় সম্পদ ইলিশের উন্নয়নে অবদান রাখছে এসব স্বেচ্ছাসেবকরা।যা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সাড়া ফেলেছে দেশে। মা ইলিশ সংরক্ষন অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু এ উপজেলার ৪২ কিলোমিটার বিষখালী নদী পথে মৎস্য বিভাগের জনবল সংকটে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে উপজেলা মৎস্য অফিস স্থানীয়ভাবে ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করে কার্যক্রম কে এগিয়ে নিচ্ছেন।
‘ ইলিশ রক্ষায় বেতাগী স্বেচ্ছাসেবক মডেল’ কাজ শুরুর আগে মৎস্য বিভাগের অভিযান চলাকালে বিষখালী নদীর একদিক থেকে অভিযানে নামলে অন্যদিক অনিরাপদ হয়ে পড়ত আর এখন স্বেচ্ছাসেবকদল থাকায় নদীতে নামার কেউ সাহস দেখায় না। অভিযান শুরু হলেই বিভিন্ন স্থানে খবর পৌঁছানোর কারনে ভয়ে সকলেই সাবধান ও সতর্ক হয়ে যায়। ফলে অভিযান সফলতা পেয়েছে। এখন নিষিদ্ধ সময় দিনে-রাতে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবকদের পাহারা থাকায় কেউ আইনভঙ্গ করার দু:সাহস পায়না। পূর্বে নিষিদ্ধ সময় আইনভঙ্গ করে ইলিশ নিধনে জেলেরা মেতে উঠত সেখানে আইন মানার ক্ষেত্রে জেলেদের প্রায় শতভাগ সফলতা ও এ এলাকায় মা-ইলিশ নিধন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
শুধু তাই নয়, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় স্থানীয়ভাবে গঠিত এই স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতার ফলে অভিযান চলাকালীন যে কোন সময় যে কোন স্থানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া সহজতর হয়েছে। নদীতে অভিযান চালিয়ে জেলে- জাল আটক, জেল-জরিমানার আগে-ভাগে আইন প্রয়োগ নয়, এর চেয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সচেতনতাবোধ তৈরি করে অবৈধভাবে মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে পারাটা বেশি কার্যকরি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে স্থানীয় মানুষ তারা নিজেরাই কমিউনিটির সম্পদ রক্ষা করতে পারছে।
তাদের তৎপরতার কারনে জেলেদের আইন সম্পর্কে অবহিতকরণ, আগাম সরকারি বার্তা পৌঁছানো, সরকারি আইনের বাস্তবায়ন ও নদীতে পাহারা প্রদানে সহযোগিতা এবং জেলেরা নদীতে না নামায় বিষখালী নদীতে এবারে প্রচুর ইলিশ পরবে বলে স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করছে। পাশাপাশি এসব স্বেচ্ছাসেবকরা নিজেরাও প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাই এ উদ্ভাবনটি পুরস্কারের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা থেকেও স্বচক্ষে এই কার্যক্রম দেখতে এসেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার। তিনি এ কার্যক্রম দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তার অভিব্যক্তি এরকম ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে ‘বেতাগী মডেল’ নি:সন্দেহে একটি কার্যকর উদ্ভাবন। যা ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্রের অন্যান্য জেলাধীন এলাকার জন্যও সমান উপযোগী। এর সফলতা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় এটি খুবই ইতিবাচক দিক। জেলেরা অনেকেই এখন বুঝতে পারছে- মা ইলিশ ও জাটকা সঠিকভাবে সুরক্ষা করতে পারলে বর্ধিত হারে ইলিশ উৎপাদনের সুফল তারা নিজেরাই ভোগ করতে পারবে। এ জন্য তারা সংঘবদ্ধ হয়ে মা ইলিশ রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। ইতোধ্যে বরিশাল বিভাগে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কর্মকর্তা নির্দেশনা দিয়েছেন ।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করতেই হয় ইলিশ সম্পদ সংরক্ষন ও উন্নয়নে ‘বেতাগী স্বেচ্ছাসেবক মডেল’ এখন একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। যা মানুষকে সচেতন ও জাগ্রত করে উদাহরণ তৈরি করেছে। স্থানীয় জেলেদের মাঝে দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তন এনে দিয়েছে । জেলেরা অনেকেই এখন বুঝতে পারছে সঠিকভাবে ইলিশ সম্পদ সুরক্ষা করতে পারলে সুফল তারা নিজেরাই ভোগ করতে পারবেন। স্বেচ্ছাসেবকরা পারিবারিকভাবে কেউ স্বচ্ছল নয়। তার পরেও বিনা পারিশ্রমিকে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে উৎসাহের সাথে ইলিশ রক্ষায় কাজ করে সারাদেশে অনুকরণীয় হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরাও নদীর মানুষ হিসেবে ইলিশ সম্পদ রক্ষার কাজে সম্পৃক্ত হতে পারায় অত্যন্ত খুশি। সংকটের মঝেও অসীম ব্রত নিয়ে আগামীতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এমনই অভিব্যক্তি তাদের চোখেমুখে ।
তবে কষ্টের কথা লাইট, রেইন কোটর্, ছাতা, লাইফ জ্যাকেট, ভাতা প্রাপ্তি, প্রশিক্ষনের অভাব ও উচ্চ পর্যায়ে ‘স্বেচ্ছাসেবক’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অনিশ্চয়তাসহ দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাওয়ায় সকলের সহযোগিতা ও সহানুভূতি প্রয়োজন । বিকল্প কর্মসংস্থানের তালিকায় যাদের নাম নেই তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত এবং ভিজিএফ খাদ্য সহায়তার পরিমান বাড়ানো দরকার।
বর্তমান সরকারের ইলিশ রক্ষায় নানা মুখী উদ্যোগ সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। যা খুবই আশান্বিত করছে। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ শুধু প্রথমই থাকবে না, উৎপাদন দিনে দিনে আরও বাড়বে। তবে এর আড়ালে কেউ যাতে অপতৎপরতা না চালাতে পারে সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
এক তথ্য মতে দেশের সারে চার লাখ জেলে পরিবার এবং আরও প্রায় ৩০ লাখ লোক বাণিজ্যিকভাবে ইলিশের ওপর নির্ভরশীল অথচ বিশ্বের অন্যতম প্রধান ইলিশ উৎপাদনকারী দেশে আশির দশক থেকে মারাত্মক ইলিশ উৎপাদন কমতে থাকে প্রজনন মৌসুমে মা- ইলিশ শিকারের কারণে। মৎস্য গবেষনা কেন্দ্র ও মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রজনন মৌসুমে নির্ধারিত সময়ে মা- ইলিশ নিধন নিষিদ্ধ করায় ২০০৯ সালের পর ইলিশ উৎপাদন বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে দেড় লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ২০১২-১৩ সালেও যেখানে তিন লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, সে উৎপাদন ২০১৭-১৮ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন।
২০২৩ সালের মধ্যে ইলিশ উৎপাদন ১০ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে সারাদেশে এ ধরনের আরো নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহন করে এসব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। জেলেরা নিজেরাই যখন স্বতস্ফুর্তভাবে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন তখন জলের উজ্বল শস্য ইলিশ অনিবার্য কারনেই আরো উজ্জ্বলতর হয়ে উঠবে। লেখক: গণমাধ্যম ও উন্নয়ন কর্মি।

 

 

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন