সুন্দরবনে কুখ্যাত ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর ২৭ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ: বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে অপরাধমুক্ত করার ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের সাফল্যের অংশ হিসেবে, কুখ্যাত জলদস্যু দল ‘ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধানসহ ২৭ জন সক্রিয় সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। গত সোমবার বিকেলে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার অন্তর্গত চরপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় গত ১৩ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে জাহাঙ্গীর শেখের নেতৃত্বে এই জলদস্যু দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট-শুটার, ১টি ফোর-শুটার, 5টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, ২টি চীনা পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ হস্তান্তর করে।
আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের মধ্যে খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা হলেন বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইয়ুব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাহজাহান শেখ (৪২) এবং হেলাল (৩৮)।
বাকি সদস্যদের মধ্যে বাগেরহাট জেলার রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বাসিন্দা হলেন আকরাম শেখ (৪৫), নুরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০) ও শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১); এবং পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন (৩৮)। ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর সদস্য হিসেবে এই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি (কাঠুরিয়া) ও মৌয়ালদের (মধু সংগ্রহকারী) জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে রাজত্ব ও ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবনস’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে এই জলদস্যুরা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেয়। এর আগে প্রশাসনের চাপে ‘ছোট সুমন বাহিনী’র ৭ সদস্য এবং ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র ৩ জন সক্রিয় সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিল। এ ছাড়া সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে ৪৫ জন জলদস্যুকে গ্রেপ্তার এবং ৪২ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন। তিনি সুন্দরবনে সক্রিয় থাকা অন্যান্য বনদস্যু দলগুলোকেও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করে বলেন, যারা অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

