ডার্ক মোড
Sunday, 09 August 2026
ePaper   
Logo
কুলিয়ারচরে শীর্ষ ছিনতাইকারী ইমনসহ গ্রেফতার ৪; তুচ্ছ ঘটনায় নিরীহ যুবককে পিটিয়ে হত্যা

কুলিয়ারচরে শীর্ষ ছিনতাইকারী ইমনসহ গ্রেফতার ৪; তুচ্ছ ঘটনায় নিরীহ যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ফারজানা আক্তার, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানা পুলিশ দীর্ঘদিনের পলাতক ও কুখ্যাত ছিনতাইকারী ইমনসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। একই সাথে একটি সাজানো হত্যা মামলায় নিরীহ নাগরিককে ফাঁসাতে দুই বছর ধরে নিখোঁজ থাকা এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে পৃথক এক মর্মান্তিক ঘটনায়, তুচ্ছ বিরোধের জেরে একদল বখাটের পিটুনিতে এক নিরীহ যুবক নিহত হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুলিয়ারচর পৌরসভার পূর্ব গাঈলকাটা এলাকার মৃত জামাল মিয়ার ছেলে গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারী ইমন ২০১১ সাল থেকে ওই এলাকার নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি ছিল। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই এবং সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অন্তত ২১টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অত্যন্ত চতুর এই পলাতক আসামি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে আসছিল। অবশেষে গত শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে শাহাদাত হোসেন শান্ত (২৮) ও হৃদয় মিয়া (৩২) নামে তার দুই সহযোগীসহ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

একই সময়ে কুলিয়ারচর পুলিশ এক যুগান্তকারী অভিযানে মোস্তফা কামাল (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে গত ৯ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে গাজীপুরের গাছা এলাকা থেকে উদ্ধার করে। শেরপুর জেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে কুলিয়ারচরের লক্ষ্মীপুরে বসবাসকারী কামাল মূলত একটি আর্থিক বিরোধের জেরে দুই বছর আগে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে চলে যান। তার নিখোঁজ হওয়ার পর, তার মা স্থানীয় বাসিন্দা জামান মিয়ার বিরুদ্ধে একটি অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মিথ্যা মামলার কারণে জামান মিয়াকে ৪ মাস অন্যায়ভাবে জেল খাটতে হয় এবং পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনজুরুল হক উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সাজানো নিখোঁজের রহস্য উদ্ঘাটন করেন।

এদিকে গত শুক্রবার বিকেলে এক পৃথক ও স্থানীয় বিরোধের জেরে জুয়েল মিয়া (২০) নামে এক নিরীহ যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে জুয়েল একটি ডিম সরবরাহের বাণিজ্যিক গাড়িতে কাজ করতেন। লক্ষ্মীপুর ও বড়চড়া এলাকার মাঝামাঝি জায়গায় একদল বখাটে যুবক তার গাড়ির গতি রোধ করে। স্থানীয় অন্য কিছু যুবকের সাথে পূর্বশত্রুতার জেরে বখাটেরা জুয়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, যদিও এই বিরোধের সাথে জুয়েলের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বখাটেরা তাকে বেধড়ক মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন অচেতন অবস্থায় জুয়েলকে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত ইমন ২১টি সচল ওয়ারেন্ট ও মামলার মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি। মোস্তফা কামালের বিষয়ে ওসি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে তার এই প্রতারণামূলক আত্মগোপনের বিষয়ে আইনি তদন্ত চলছে এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে জুয়েল হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ওসি যোগ করেন, হত্যাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগী পরিবারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন