ডার্ক মোড
Friday, 07 August 2026
ePaper   
Logo
পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের হিসাব কর্মকর্তা নিপার বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের হিসাব কর্মকর্তা নিপার বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) ডিএফএ-স্টোরস ও প্রকিউরমেন্ট শাখার হিসাব কর্মকর্তা (ক্রয়) কাজী সাইদা বেগম নিপার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের একটি পক্ষ এই অভিযোগ দায়ের করেছে, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষের সিন্ডিকেট চালানো, ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং নিজের ও বেনামে বিপুল সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের পরিচালকের কাছে দাখিল করা লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, কাজী সাইদা বেগম নিপা ঠিকাদারদের বিল ছাড় করার আগে নিয়মিত প্রতিটি ফাইলের ওপর দুই থেকে তিন শতাংশ কমিশন দাবি করেন। যেসব ঠিকাদার এই কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাঁদের মারাত্মক হয়রানি ও প্রশাসনিক বিলম্বের মুখোমুখি হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীরা প্রাক্কলন করেছেন যে, প্রতি অর্থবছরে প্রকিউরমেন্ট শাখার মাধ্যমে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বিল বিতরণ করা হয়। এই পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে উক্ত কর্মকর্তা অবৈধ কমিশনের মাধ্যমে বার্ষিক ৪.৫ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া ভুয়া বিল ব্যবহার করে সরাসরি সরকারি তহবিল আত্মসাতের ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই শাখায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকার সুবাদে এই কর্মকর্তা বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার একটি বড় অংশ তাঁর স্বামী ও নিকটাত্মীয়দের নামে রাখা হয়েছে। অভিযোগে চট্টগ্রামের হালিশহরে তাঁর স্বামীর নামে ১০ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনসহ বেশ কয়েকটি মূল্যবান সম্পত্তির তালিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর এ. কে. খান ও সিটি গেট এলাকা, মিরসরাই উপজেলা এবং তাঁর জন্মস্থান বরিশালে একটি বিলাসবহুল বাড়ির মালিকানার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, তিনি বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে তাঁর আত্মীয়দের নামে খোলা একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ টাকা জমা রাখেন। যদিও তিনি দাবি করেন যে এই কমিশনের টাকা রেলওয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে ভাগাভাগি করা হয়, তবে আবেদনের অভিযোগ অনুযায়ী এর সিংহভাগই তিনি নিজের কাছে রাখেন।

ঠিকাদাররা তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করেছেন যে, তিনি তাঁর অপকর্মের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া ঠেকাতে "রেলওয়ে সাংবাদিক সমিতি" নামক একটি স্বঘোষিত সংগঠনের কিছু নেতাকে নিয়মিত মাসিক মাসোহারা দিয়ে থাকেন। এই পদ্ধতিগত হয়রানির বর্ণনা দিয়ে ঠিকাদাররা দুর্নীতিবিরোধী এই সংস্থাকে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করতে, তাঁর সম্পদের উৎস যাচাই করতে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

অভিযোগের অনুলিপি দুদকের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ), পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক এবং প্রধান নিয়ন্ত্রক বরাবরও পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কাজী সাইদা বেগম নিপার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

গত ১৪ জুন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর, অভিযুক্ত কর্মকর্তা কোনো বিভাগীয় অনুমতি ছাড়াই একজন আইনজীবীর মাধ্যমে একটি আইনি নোটিশ ও প্রতিবাদ লিপি পাঠান। সেখানে তিনি প্রতিবেদনটিকে মিথ্যা এবং তাঁর বক্তব্য ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

তবে সম্পাদকীয় রেকর্ড অনুযায়ী, এর আগে সরাসরি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছিল এবং সেই অডিও রেকর্ডটি সংরক্ষিত রয়েছে। আইনি নোটিশটিতেই স্ববিরোধীভাবে স্বীকার করা হয়েছে যে, উক্ত কর্মকর্তার কাছেও সেই রেকর্ডিংয়ের একটি কপি রয়েছে। এ ছাড়া রিপোর্টিং টিমের কাছে ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদারের জবানবন্দির রেকর্ডিং রয়েছে, যেখানে কমিশন দেওয়ার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

এই অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, "আমি এই মুহূর্তে দুদকের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারছি না। অভিযোগের কপি হাতে পেলে আমরা তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাব। এ ছাড়া ওই কর্মকর্তার আইনি নোটিশ দেওয়ার বিষয়েও আমি অবগত নই। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেব।"

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন