কুমিল্লায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী: বিশ্বমঞ্চে বাঙালি পরিচয় ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে হবে
কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
বাঙালি সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য লালন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সুস্থ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি’র কুমিল্লা আগমন উপলক্ষে এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কুমিল্লা মহানগর শাখা, স্থানীয় শিল্পী এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, বিএনপি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম এবং জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ আহমেদ মাসুদ। জাসাস কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি ড. আফসান আনিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সংস্কৃতি হলো একটি জাতির দর্পণ। আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে এমন একটি সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চা গড়ে তুলতে হবে। বিদেশী অপসংস্কৃতির আগ্রাসনের এই সময়ে তরুণ প্রজন্মকে আমাদের নিজস্ব দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট করতে জাসাসের মতো সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রধান বক্তা মনিরুল হক চৌধুরী এমপি কুমিল্লার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, প্রতিভাবান শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং জাতীয় পর্যায়ে তাদের সঠিক মূল্যায়ন করার মাধ্যমেই কেবল একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠন করা সম্ভব।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল অতিথিদের বরণ, উদ্বোধনী নৃত্য এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক পর্বে দেশাত্মবোধক সমবেত গান ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, থিমেটিক নৃত্যনাট্য ‘কুমিল্লা আমার কুমিল্লা’, দলীয় আবৃত্তি এবং নজরুলের ঐতিহাসিক বিপ্লবী গান ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়া কিংবদন্তি সুরকার শচীন দেব বর্মণের কালজয়ী গান ‘ঝিলমিল ঝিলমিল ঝিলের জলে’র সাথে চমৎকার নৃত্য এবং ঐতিহাসিক ‘জুলাই আন্দোলন’ ফুটিয়ে তুলে পরিবেশিত বিশেষ কোরিওগ্রাফি উপস্থিত দর্শকদের গভীরভাবে মুগ্ধ করে। প্রবীণ শিল্পীদের মাঝে সম্মাননা পুরস্কার বিতরণ এবং সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই সফল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটে।

