বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক: সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা, জরুরি উদ্ধার অভিযান জোরদার এবং ত্রাণ কার্যক্রম বেগবান করতে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের শুরুতে এলজিআরডি মন্ত্রী এই জাতীয় সংকট মোকাবেলায় সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ সংস্থাকে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধভাবে ও সমন্বিত উপায়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ লাঘব করতে সুসমন্বিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং জরুরি সেবা ও ত্রাণ সামগ্রী যেন দ্রুততম সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে হবে। উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সরকার দুর্যোগ মোকাবেলায় পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। ত্রাণ বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ না রেখে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছেই যেন সাহায্য পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টি বা গাফিলতির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি জেলা প্রশাসন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন, যাতে খাদ্য, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জরুরি সামগ্রী অবিলম্বে সরবরাহ করা যায়।
এদিকে, অর্থমনন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট করতে বন্যাদুর্গতদের একটি সঠিক ও নির্ভুল ডাটাবেস বা তালিকা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে তিনি বাজার সরবরাহ চেইন সচল রাখা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো যত দ্রুত সম্ভব সচল করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক থেকে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন এবং ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কৃষি খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াবেন এবং দ্রুত নতুন ফসলের বীজ বিতরণ নিশ্চিত করবেন। এছাড়া, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ রাস্তাঘাট, মহাসড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সংযোগগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের পদক্ষেপ নেবে।

