ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি পুনর্বাসনে জোর দিচ্ছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দুলু
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বন্যার পানি নামতে শুরু করায় সরকার চলমান ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি এখন ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি। একই সাথে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ত্রাণ বিতরণে যেকোনো ধরনের দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, "ত্রাণ কার্যক্রমে আমরা কোনো ধরনের দুর্নীতি বা পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করব না। বন্যাদুর্গত মানুষকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে রাজনীতির কোনো স্থান নেই। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রত্যেককেই ত্রাণ পেতে হবে। এর ব্যতিক্রম কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এর আগে স্থানীয় একটি খাল পরিদর্শন শেষে দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, "রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর এই খালগুলো পুনঃখনন করার বিষয়ে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল কাটা বিপ্লব বাংলাদেশকে খাদ্যঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তরিত করেছিল, যার ফলে দেশ বিদেশেও খাদ্যশস্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল।"
ড্রেজিং বা খননকাজের বর্তমান প্রভাব লক্ষ্য করে তিনি বলেন, "আমি নিজে দেখেছি যে, এই খালটি খনন করার ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেকটাই সহজ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য দ্বিমুখী: বর্ষাকালে যেন পানি সহজে নেমে যেতে পারে এবং শুষ্ক মৌসুমে যেন পানি ধরে রাখা যায়। আমরা খালের পাড়গুলোকেও কার্যকরভাবে ব্যবহার করব।"
মন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, আগামী শুষ্ক মৌসুমে খালের অবশিষ্ট খননকাজ সম্পন্ন করার জন্য তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং খালের আরও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

