ডার্ক মোড
Sunday, 19 July 2026
ePaper   
Logo
যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, দেশের যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাঁদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বিকাশ ঘটানো সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘ইকোনমিক এক্সিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (ইএআরএন-EARN) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতাধীন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজ বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা বলেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের এক ধরনের ঘাটতি ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে এবং শিশু-কিশোর ও কিশোর-কিশোরীদের আচরণ ও কথাবার্তায় উগ্রতার প্রবণতা বাড়ছে। এই বাস্তবতায় যুবকদের শুধু কারিগরি বা পেশাগত দক্ষতা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিকতার ওপর একটি সুনির্দিষ্ট সেশন বা ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য অর্জনে ‘আর্ন’ (EARN) প্রকল্পটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর উদ্দেশ্য হলো ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৯ লাখ ‘নিট’ (যা শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা কোনো প্রশিক্ষণে যুক্ত নয় এমন) যুবগোষ্ঠীকে—যার ৬০ শতাংশই নারী—বাজারমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ এবং বিশ্বব্যাংকের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে ব্র্যাক (BRAC), সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনকে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। ব্র্যাক ঢাকা ও রংপুর বিভাগে; সেভ দ্য চিলড্রেন বরিশাল বিভাগ এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়; কেয়ার বাংলাদেশ পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩টি জেলাসহ খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলাসহ সিলেট বিভাগে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এই সংস্থাগুলো এবং তাদের যৌথ অংশীদাররা ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলার ২৫০টি উপজেলায় ৫,০০০টি গ্রামভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে। এই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে ৯ লাখ যুবককে সমসাময়িক ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যা তাঁদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে এবং দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আমিনা বেগমের সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক কাজী মোখলেসুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার সৈয়দ রাশেদ আল-জায়েদ জশ এবং অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক ড. মেরিনা নাজনীনসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন