এককভাবে নয়, সমন্বিত প্রচেষ্টায় বন্যাদুর্গতদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন
বান্দরবান প্রতিনিধি
ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি বলেছেন, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজটি বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত বা একক প্রচেষ্টায় না করে, সকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে করতে হবে।
তিনি বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, দেশের সাধারণ জনগণকে মূল লক্ষ্য ধরে সবার সাথে সমন্বয় করে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।"
আজ শুক্রবার রাতে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা সহ জেলার অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বিচ্ছিন্ন বা একক সিদ্ধান্তে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন না, কারণ এতে প্রয়োজনীয় সহায়তার মান বজায় রাখা সম্ভব হয় না। এটি কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতার সময় নয় কিংবা কোন সংস্থা কত বেশি কাজ করেছে তা হিসাব করারও সময় নয়। এই মুহূর্তে মূল দায়িত্ব হলো সরকারি, বেসরকারি এবং অন্যান্য সংস্থাসহ সকলের সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করা।"
পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন উল্লেখ করেন যে, তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং অন্যান্য সংস্থার অধীনে অসংখ্য ছোট ছোট প্রকল্প রয়েছে। তিনি বলেন, "একই সাথে এত বেশি প্রকল্পের দিকে মনোযোগ দেওয়া কঠিন এবং প্রায়শই তা থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় না। এ ধরনের সাময়িক বা ক্ষুদ্র পরিসরের প্রকল্পের পরিবর্তে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। আমাদের জাতীয় সম্পদের কোনো অপচয় হতে দেওয়া যাবে না। কোনো অবস্থাতেই কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি থাকা চলবে না।"
সভায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা বান্দরবানে সাম্প্রতিক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন, বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন।

