ডার্ক মোড
Sunday, 19 July 2026
ePaper   
Logo
মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ কুখ্যাত ‘মিন্টু বাহিনী’ প্রধান গ্রেফতার

মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ কুখ্যাত ‘মিন্টু বাহিনী’ প্রধান গ্রেফতার

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ‘মিন্টু বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কুখ্যাত প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আল আজম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার এবং মহেশখালী স্টেশনের কোস্ট গার্ড সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি টাস্কফোর্স আজ ভোর ৬টার দিকে এই যৌথ অভিযান শুরু করে। দলটি মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী সংলগ্ন গভীর বনে তল্লাশি চালায়, যেখানে অপরাধী চক্রটি দেশজুড়ে সরবরাহের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি কারখানা স্থাপন করেছিল।

অভিযানকালে কোস্ট গার্ড ওই আস্তানা থেকে ৫টি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, ৯টি দেশীয় তৈরি পিস্তল, ১টি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৬টি বিভিন্ন ধরনের কার্তুজ, আরও ১টি দেশীয় তৈরি অস্ত্র, ৩ লিটার দেশীয় মদ এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে। মহেশখালীর হোয়ানকের বাসিন্দা ইমাম হোসেন মিন্টু দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র পাচার, জলদস্যুতা, সশস্ত্র ডাকাতি এবং পর্যটকদের ওপর হামলার জন্য কুখ্যাত ‘মিন্টু বাহিনী’র মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত। মিন্টুর বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, তার গ্রেফতারের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় জেলে এবং লবণ চাষিদের আতঙ্ক তৈরি করা এই অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ সমুদ্র নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মিন্টুর গ্রেফতার একটি বড় পদক্ষেপ। এই চক্রের বাকি সদস্যদের অবস্থান সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী ও জব্দকৃত আলামতের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জলদস্যুতা ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে "জিরো টলারেন্স" (শূন্য সহনশীলতা) নীতি বজায় রাখে। সুন্দরবনে জলদস্যু দমনের সাফল্যের পর, মহেশখালীসহ অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ, ডাকাতি এবং অবৈধ অস্ত্র উৎপাদন সম্পূর্ণ নির্মূল করতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে এই বাহিনী।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন