ডার্ক মোড
Saturday, 03 October 2026
ePaper   
Logo
মন্তব্য প্রতিবেদন :  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বার্তা বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপলব্ধি করতে হবে  ​

মন্তব্য প্রতিবেদন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বার্তা বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপলব্ধি করতে হবে ​

হেমায়েত হোসেন

দলীয় অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক সময়োচিত ও প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ।

দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের প্রশ্রয় না দিয়ে দ্রুত জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে দলীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা মানেই অপরাধের ছাড়পত্র নয়।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব বহন করে আসছে, যেখানে স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অবৈধভাবে জমি দখল ও পেশিশক্তির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা দেখা যায়।

সম্প্রতি রাজধানীতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে জায়গা দখলের চেষ্টা, ইউসিসি চত্বরের সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর এবং মোহাম্মদপুরে অবৈধ জমি দখলের মতো ঘটনাগুলো নতুন প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

এসব ঘটনায় শীর্ষ নেতৃত্বের দৃশ্যমান ক্ষোভ দলের এই স্পর্শকাতর বিষয়টি উপলব্ধি করারই বহিঃপ্রকাশ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিতর্কিত নেতা-কর্মীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এগিয়ে চলছে।

একই সঙ্গে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গকারী ও আইনি অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে।

রাড্ডা সেন্টার কাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে—যা প্রমাণ করে আইনপ্রণেতা হলেও অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে না।

শাহ আলী থানা বিএনপির খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিটের আনোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির হাফিজুর রহমান শুক্কু এবং ৫ জন ছাত্রদল, ২ জন স্বেচ্ছাসেবক দল ও ৪ জন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল নেতাসহ মোট ১৪ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনকেও বহিষ্কার করা হয়।

মেয়াদোত্তীর্ণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে আমিনুল ইসলাম (বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) এবং মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের ৫১ সদস্যের কমিটি এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের ইউনিট দ্রুত বিলুপ্ত করা হয়েছে।

রাড্ডা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শাহ আলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর আলমকে দারুস সালাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে পুরো রাজনৈতিক ময়দানেও সরকারের দৃঢ় অবস্থানের পরীক্ষা চলছে।

গত বৃহস্পতিবার ফেনীর এক জনসভায় প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজের ঘর সামলান।" একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করেন।

অন্যদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আকতারুজ্জামানকে গ্রেফতার এবং তার মুক্তির দাবিতে জামায়াতের রাজপথে আন্দোলনের হুমকি সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে।

তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপি নেতা-কর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বার্তা একেবারেই পরিষ্কার।

ক্ষমতায় থাকা মানেই ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নয়। দলীয় শৃঙ্খলা, দলের ভাবমূর্তি এবং সরকারের স্বচ্ছতাই প্রধান অগ্রাধিকার। আর এই নির্দেশনা অমান্য করার পরিণতি যে পদত্যাগ, বহিষ্কার ও কারাদণ্ড—তা স্পষ্ট।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই কঠোর অবস্থান সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।

দেশের ও জনগণের স্বার্থেই এই পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন। তাই বর্তমান রাজনীতির বাস্তবতা এবং প্রধানমন্ত্রীর বার্তার গুরুত্ব অনুধাবন করাই এখন ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব।

মন্তব্য প্রতিবেদন :  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বার্তা বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপলব্ধি করতে হবে  ​

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন