ডার্ক মোড
Sunday, 19 July 2026
ePaper   
Logo
পেশাগত উন্নয়নে নারীদের প্রতি বৈষম্যের তীব্র নিন্দা জানাল নারীপক্ষ

পেশাগত উন্নয়নে নারীদের প্রতি বৈষম্যের তীব্র নিন্দা জানাল নারীপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে নারী কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে নারী অধিকার সংগঠন ‘নারীপক্ষ’।

গত ১৫ জুলাই 'দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড'-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নারীপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি 'অ্যাপ্লাইড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' কোর্সে অংশ নেওয়ার জন্য ৩০ জন কর্মকর্তাকে মনোনীত করেছে। এই প্রশিক্ষণের জন্য আবেদনকারী ৪৭৩ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৯০ জন নারী কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও একজন নারীকেও নির্বাচিত করা হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, ক্লাসগুলো সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কারণে নারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে নারীপক্ষ ব্যাংকের এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে বলে, আবেদনকারী অনেক নারী কর্মকর্তাই তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিয়মিত সন্ধ্যা বা রাত পর্যন্ত অফিস করেন এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন দাপ্তরিক ট্যুরেও অংশ নেন। সেখানে শুধুমাত্র এই বিশেষ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেই ব্যাংক কেন নিরাপত্তার অজুহাত দেখাচ্ছে, তা নিয়ে সংগঠনটি প্রশ্ন তুলেছে। নারীপক্ষ এই সিদ্ধান্তকে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অদক্ষ করে রাখার একটি চক্রান্ত এবং নারীর পেশাগত জীবনের প্রতি সুগভীর প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা বৈষম্যমূলক মানসিকতায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নারীপক্ষ তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছে। প্রথমত, অবিলম্বে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে প্রশিক্ষণে সমসংখ্যক নারী কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নারী অংশগ্রহণকারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যৎ সকল প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও দাপ্তরিক কার্যকলাপে নারীদের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

নারীপক্ষের মতে, নারীদের এই কর্মসূচি থেকে বাদ না দিয়ে ব্যাংকের উচিত ছিল সন্ধ্যার এই কোর্সে তাঁদের অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সহজতর করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। কোনো সমাধান না খুঁজে সরাসরি বর্জন করার মাধ্যমে ব্যাংক মূলত বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

বিবৃতিতে নারীপক্ষ পরিশেষে উল্লেখ করে যে, নারী কর্মকর্তাদের এ ধরনের প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত করার অর্থ হলো—তাঁদের আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠার পথে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা সৃষ্টি করা।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন