নীলফামারীর জলঢাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দূর্নীতির তদন্ত বাঁধাগ্রস্ত করতে সুপারের কৌশলগত টাইম পিটিশনের আবেদন
নীলফামারী সংবাদদাতা:
নীলফামারী জলঢাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষককে কৌশলে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বিদ্যূৎসাহী নির্বাচিত করার অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আলোকে জেলা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক তদন্ত নোটিশ পেয়েও কৌশলগত ও অদৃশ্য কারণে নির্দিষ্ঠ তদন্ত কার্যদিবসের একদিন আগে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে টাইম পিটিশনের আবেদন করেছেন এক দাখিল মাদ্রাসার সুপার। অভিযোগ রয়েছে এর আগেও দূর্নীতির দায়ে তিনটি তদন্ত কার্যক্রম আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে স্থগিত করেছেন কুটকৌশলী ওই মাদ্রাসা সুপার। ঘটনাটি উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের লক্ষীমাড়াই আহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গত ১ই ডিসেম্বর ২৫ইং তারিখে নামমাত্র ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে আহবান করে যথারীতি প্রটোকল মেইনটেইন করে দাতা সদস্যদের মুল্যয়ন না করে এবং ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনী তফসিল ও নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে নিজ ক্ষমতা বলয়ে রাতের আধাঁরে আর্থিক সুবিধা নিয়ে অনিয়ম তান্ত্রিকতার মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষককে কমিটিতে রেখে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে মাদ্রাসা সুপার কবির উদ্দীন। এ নিয়ে দাতা সদস্য এবং অভিভাবক সদস্যেরা মাধ্যমিক ও প্রাথনিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ডিসি অফিস, জেলা প্রশাসক, জেলা, উপজেলা মাধ্যমিক ও সপ্রাবি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কৌশলী ও দূর্নীতি পরায়ন মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ অপসারণ চেয়ে আবেদন করেন। অভিযোগের আলোকে একাধিক অফিস থেকে তদন্ত চিঠি আসলে কুটকৌশলী মাদ্রাসা সুপার কবির উদ্দীন তদন্ত কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্ত করতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ধামাচাপা দিয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত পৃথক তিনটি তদন্ত কার্যক্রম আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে স্থগিত করেছেন মাদ্রাসা সুপার কবির উদ্দীন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রমতে গত ২৯শে জুন ২৬ইং নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি তদন্ত চিঠি ইসূ হয়। যার তদন্ত আদেশ উল্লেখ করা হয়েছিল যে, জলঢাকা উপজেলার লক্ষীমাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পারভীন আক্তার এবং রাজবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে লক্ষীমাড়াই আহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় বিধি বহির্ভূতভাবে গোপনে সভাপতি /বিদ্যুৎসাহী মনোনীত হওয়ার বিষয়ে একখানা অভিযোগ এ কার্যালয়ে দাখিল হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে জলঢাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে উক্ত ঘটনা সরজমিন তদন্ত পূর্বক তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। যাহার স্মারক নং জেপ্রাশিঅ/নীল/২০২৬/৮২৫/১(২)। দ্বিতীয় দফায় গত ২৩শে জুলাই জেলা ডিসি ও ডিডির নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানাতুল ফেরদৌস হ্যাপী স্বাক্ষরিত একটি তদন্ত চিঠি ইসূ হয় এবং তদন্ত নির্দেশিত হয় উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর। যেখানে উল্লেখ্য করাছিল লক্ষীমাড়াই আহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা স্রষ্ঠ সদস্যার পরিস্থিতি সরজমিন তদন্ত পূর্বক আগামী সাত কার্যবিদসের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে জেলা ডিডি শিক্ষা অফিসারের উদ্বুদ্ধ দিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ( ভারপ্রাপ্ত ) আব্দুস সামাদ স্বাক্ষরিত একটি তদন্ত চিঠি গত ৩০শে জুলাই ইসূ্ হয়। যার আলোচ্য বিষয় ছিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের এমপিও অনুদানভুক্ত মাদ্রাসার কমিটিতে নাম থাকায় অভিযোগ তদন্ত প্রসঙ্গে। যাহার স্মারক নং উপ্রশিঅ/জল/নীল/২০২৬/৬০৬। উক্ত তদন্ত চিঠি সদয় অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দফতরসহ অভিযোগকারী, অভিযুক্ত দুই শিক্ষকসহ মাদ্রাসা সুপার কবির উদ্দীনকে অফিস হইতে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবাই তদন্ত চিঠি প্রাথমিক অফিসে এসে গ্রহন করলেও অদৃশ্য কারণে এবং কৌশলগত ফন্দি করে মাদ্রাসা সুপার কবির উদ্দীন গ্রহন করেনি বরং তদন্ত চিঠি গ্রহন না করে উপজেলা জামায়াত অফিস, ইউএনও অফিসের সিও অফিস, মাধ্যমিক অফিস এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের স্বরনাপন্ন হয়ে তদন্ত কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্ত করতে তদন্ত স্থগিত চেয়ে একাধিক আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে দাতা সদস্য মাহাবুবর রহমান মিস্টার গণমাধ্যমকে জানায়, দূূনীতি পরায়ন সুপার কবীর উদ্দীন একজন কুটকৌশলী ও সুচতুর ব্যক্তিত্ব। তদন্ত কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্থ করতে তিনি একাধিক টাইম পিটিশন করে সময় আবেদন করেন পরে টাকা বিলি করে তদন্তে কার্যক্রম স্থগিত করেন। এ পর্যন্ত টাকার বিনিময় কত তদন্ত তিনি বন্ধ করেছে তার হিসাব নেই। তদন্ত চিঠি ইসূ এবং স্থগিত সম্পর্কে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ যুগের আলোকে জানান, তদন্ত কার্যদিবসের একদিন আগে মাদ্রাসা সুপার কবির উদ্দীন এসে ২৫ দিনের সময় চেয়ে তদন্ত পিছিয়ে নেওয়ার আবেদন করেন। আমি আবেদন মঞ্জুর করেছি..! আপনার দুই সহকারী শিক্ষক এ তদন্তকালে সময় চেয়েছে কি না জানতে চাইলে শিক্ষা অফিসার আব্দুস সামাদ বলেন, আমার প্রাথমিকের শিক্ষকরা আবেদন করলো না অথচ সুপার সাহেব তদন্ত স্থগিতের আবেদন করলেন ব্যাপারটি আমার কাছে রহশ্যময়। আগামী তদন্ত চিঠি হলে আর কোন সুযোগ পাবে না। অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসা সুপার কবির উদ্দীন নিজ ক্ষমতার বলয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে ব্যবহার করে সভাপতি ও বিদ্যুৎসাহী মনোনীত করে গোপনে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি তৈরী করেছে। এ নিয়ে একাধিক সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে তদন্ত নোটিশ আসলে সুপার কবির উদ্দীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দিনরাত মিলে তদন্ত কার্যক্রমে বাঁধাগ্রস্ত ও স্থগিত করতে মরিয়া হয়ে উঠে। জানা যায়, পুলিশ কর্তৃক ধৃত এক শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানের সুযোগ সুবিধা দেওয়ায় অনেকটা ব্যক্তি রোষানলে পরতে হয়েছে মাদ্রাসা সুপার কবির উদ্দীনকে। এ বিষয়ে লক্ষীমাড়াই আহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার কবির উদ্দীন জানান, তদন্তের একদিন আগে তদন্ত সময় চেয়ে উসপ্রাবি অফিসে আবেদন করেছি। কি অসুবিধা দেখিয়ে আবেদন করলেন জানতে চাইলে সুপার কবির উদ্দীন বলেন, এখন ব্যস্ত আছি পরে কথা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী বলেন, লক্ষীমাড়াই আহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার কর্তৃক এমন কর্মকান্ডের কথা আমার জানা ছিল না। তদন্ত চিঠি করা হয়েছিল প্রতিবেদন এখনো আসেনি। ঘটনার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

