ডার্ক মোড
Saturday, 20 June 2026
ePaper   
Logo
তালতলীতে অনিয়মের অভিযোগ: ব্যক্তিগত স্বার্থে সরানো হলো এলজিইডির কালভার্ট

তালতলীতে অনিয়মের অভিযোগ: ব্যক্তিগত স্বার্থে সরানো হলো এলজিইডির কালভার্ট

বরগুনা সদর প্রতিনিধি

বরগুনার তালতলী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে চলমান একটি সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সোনাকাটা ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া থেকে লাউপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রকল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অনুমোদনহীন স্থান পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

অফিশিয়াল নকশা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ সচল রাখতে এবং জলাবদ্ধতা প্রতিরোধ করতে কালভার্টটি একটি স্থানীয় খালের সংযোগস্থলে নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে নির্মাণের স্থান পরিবর্তন করে ওবায়দুল নামে এক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির সামনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাসিন্দারা জানান, নতুন নির্বাচিত স্থানটিতে কোনো খাল বা পানি প্রবাহের ব্যবস্থা নেই। এর ফলে নির্দিষ্ট একটি মহলের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সরকারি বরাদ্দের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জননিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তাদের বিপুল অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার মাধ্যমে কালভার্টের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, কালভার্টটি তার পূর্বনির্ধারিত স্থানে নির্মিত হলে তা কৃষি সেচকাজে দারুণভাবে সহায়ক হতো এবং এলাকার জলাবদ্ধতা প্রতিরোধ করত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তাদের ক্রমাগত প্রতিবাদ সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনমতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কেবল ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এই কাজ করেছে। তারা আরও উল্লেখ করেন, এমন মনগড়া সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়বে এবং সরকারি তহবিলের অপচয় ত্বরান্বিত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মিরাজ এড়িয়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে বলেন, তারা কেবল এলজিইডি অফিসের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন এবং বিস্তারিত জানতে প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, প্রকল্পের তদারকি এবং স্থান পরিবর্তনের কারণ জানতে তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া মেলেনি। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন নীরবতা ও এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দুর্নীতির অভিযোগকে আরও জোরালো করে তুলছে। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু না হলে মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীদের এমন স্বেচ্ছাচারিতা আরও বাড়বে বলে তারা সতর্ক করেন।

এই অনিয়ম ও প্রকল্পের অনুমোদনহীন স্থান পরিবর্তনের ঘটনার অবিলম্বে তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়নের নামে ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করা হলে রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপচয় রোধ করা অসম্ভব। স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ যদি এখনই কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে, যা শেষ পর্যন্ত এই গণঅবকাঠামোর মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করে দেবে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন