ডার্ক মোড
Saturday, 25 July 2026
ePaper   
Logo
ঘুষের টাকা না দেওয়ায় শেরপুরে শিক্ষকের এমপিও আটকে ১১ বছর

ঘুষের টাকা না দেওয়ায় শেরপুরে শিক্ষকের এমপিও আটকে ১১ বছর

শেরপুর প্রতিনিধি

ঘুষ দিতে না পারায় দীর্ঘ ১১ বছর ধরে এমপিওভুক্তি (মান্থলি পে অর্ডার) আটকে রয়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক কোহিনুর আলমের। তিনি হাতিবান্ধা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা প্রধানপাড়া গ্রামের প্রয়াত আবুল কাশেমের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে রাংটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কোহিনুর আলমকে নিয়োগ দেন। তবে দীর্ঘ ১১ বছর অতিক্রম হলেও তাঁর এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে চরম আর্থিক অনটনে কায়ক্লেশে দিনাতিপাত করছে তাঁর পরিবার। ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগ, শিক্ষা কর্মকর্তাদের চাহিদামতো ঘুষের টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় পরিকল্পিতভাবে তাঁর এমপিওভুক্তি আটকে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক দাবি করেন, ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন তহবিলে ৭ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে তিনি উক্ত পদে নিয়োগ পান। কিন্তু পরবর্তীতে এমপিও ক্লিয়ারেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘুষ দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর ছিল না। সম্প্রতি বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. জামশেদ আলী জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এবং অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মাসুমা নামে এক নারীর নামে এমপিওভুক্তির প্রস্তাব পাঠান। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাংটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে জালিয়াতির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, মাসুমা খাতুন নামে কাউকে তাঁরা চেনেন না এবং এ নামে কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাননি।

যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক মো. জামশেদ আলী জানান, এমপিও প্রক্রিয়াকরণে দাপ্তরিক কিছু খরচ রয়েছে, যা দিতে অপারগ ছিলেন কোহিনুর আলম। তিনি দাবি করেন, অন্য কেউ এ খরচ বহন করে এমপিও করিয়ে দেবে এবং পরবর্তীতে বেতন হওয়ার পর কোহিনুর তা পরিশোধ করবেন—এমন একটি প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। ফলে কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিবর্তে অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করার চেষ্টা করেছিল।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এদিকে শেরপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজওয়ান বিষয়টি নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন