ডার্ক মোড
Monday, 14 September 2026
ePaper   
Logo
অনিয়মের অভিযোগে বিআরটিএ চট্টগ্রাম সার্কেল-১ ডিডির অপসারণ দাবি

অনিয়মের অভিযোগে বিআরটিএ চট্টগ্রাম সার্কেল-১ ডিডির অপসারণ দাবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো 
 
 অনিয়মও দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত বাংলাদেশ রোড ট্র্যান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সার্কেল (১) চট্টগ্রামের হালিশহর কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনকে অপসারনের দাবিতে চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন । একই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে, দুদক চেয়ারম্যান এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকেও।
 
লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিআরটিএ চট্টমেট্রো সার্কেল-১ (হালিশহর কার্যালয়ের) উপপরিচালক প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনের বিরুদ্ধে যানবাহন প্রতিস্থাপন, নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন, আমদানি-সংক্রান্ত ফাইল জালিয়াতি, স্লিপার বাস অনুমোদনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এসব বিষয়ে গত ৩১ আগস্ট সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী জহির উদ্দিনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগটি প্রত্যাহার করার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ, ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং তার লালিত সন্ত্রাসী দ্বারা প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি কোনো অভিযোগকারীকে ভয়-ভীতি বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু অভিযোগকারীর নিরাপত্তার বিষয় নয়; বরং একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই অভিযোগকারী জহির উদ্দিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁর ওপর কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, তা প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই করার আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করার স্বার্থে প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনকে তদন্তকালীন সময়ে চট্টগ্রাম থেকে অন্যত্র সাময়িকভাবে সংযুক্ত/বদলি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, অভিযোগের একটি বড় অংশ চট্টগ্রাম বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, নথি ও রেকর্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করলে নথি, ডিজিটাল রেকর্ড, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিযোগকারী কিংবা সম্ভাব্য সাক্ষীদের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। ২০২১ সালের চট্টগ্রাম বিআরটিএ বিভাগীয় কার্যালয়ে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটিও এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই ঘটনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ও রেকর্ডের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। অতীতের এমন ঘটনার প্রেক্ষাপটে বর্তমানে তদন্তের আওতাভুক্ত হতে পারে এমন পুরোনো প্রতিস্থাপন, স্ক্র্যাপিং, নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল রেকর্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে দাখিলকৃত অভিযোগটি যথাযথভাবে তদন্তের আওতায় নেওয়া হোক। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনকে তদন্তকালীন সময়ে চট্টগ্রামের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অন্যত্র সংযুক্ত/বদলি করা, অভিযোগকারী জহির উদ্দিনকে ভয়-ভীতি, চাপ বা অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করার কোনো চেষ্টা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করা এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে কি না, তা প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট নথি, ফাইল, ডিজিটাল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সরকারি তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করার দাবি জানানো হয়েছে। 
 
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন বলেন, বিআরটিএ চট্টগ্রামের হালিশহর কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) তৌহিদুল হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ আছে। আর এসব অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ কতিপয় আওয়ামী লীগের নেতাদের মাধ্যমে সরকার বিরোধী কাজে ব্যবহার করছে। এসব বিষয় অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করায় আমার উপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছে। তাছাড়া সে এই পদে বহাল থাকলে আমার নিরাপত্তা জনিত সমস্যা ও তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছি। 
 
তিনি আরও বলেন, উপপরিচালক (ডিডি) প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনকে অপসারণের দাবিতে আগামীকাল ১৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলন থেকে তাঁর অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে বিভাগীয় কার্যালয় ঘেরাও এবং পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
 
 
 

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন