‘হ্যালো ডিসি’ উদ্যোগে নতুন কর্মসংস্থান: স্বস্তি ফিরলো মুনিমের জীবনে
স্টাফ রিপোর্টার
মার্চেন্ডাইজিং ও মার্কেটিং খাতে দীর্ঘ পনেরো বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সাভারের ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা মো. আবদুল্লাহ আল মুনিমের ক্যারিয়ার হঠাৎ থমকে যায় মারাত্মক অসুস্থতা ও চাকরি হারানোর কারণে।
টানা তিন মাস অসুস্থতার সাথে লড়াই করে সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরলেও চাকরিচ্যুত হতে হয় মুনিমকে। তিন সন্তান ও পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা এবং সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে উঠলে শেষ সম্বল হিসেবে ঢাকা জেলা প্রশাসনের জনবান্ধব প্ল্যাটফর্ম 'হ্যালো ডিসি'-তে আবেদন জানান তিনি।
প্ল্যাটফর্মে দাখিল করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের কার্যালয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান মুনিম।
কাকতালীয়ভাবে, আগ্নেয়াস্ত্রের ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রখ্যাত পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান 'এমএম ইন্টারন্যাশনাল'-এর সিইও মশিউর রহমানও সে সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। ডিসির কক্ষে কথোপকথনের একপর্যায়ে মুনিমের দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা, অসুস্থতা, চাকরিচ্যুতি এবং পরিবার নিয়ে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটানোর বিষয়টি জানতে পেরে উদ্যোক্তা মশিউর রহমান গভীরভাবে ব্যথিত হন।
কোনো আনুষ্ঠানিক বা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার অপেক্ষা না করে মশিউর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান 'এমএম ইন্টারন্যাশনাল'-এ মুনিমকে একটি উপযুক্ত পদে চাকরির প্রস্তাব দেন। শিল্পপতির এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতেই মুনিমের হাতে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি মানবিক কাজে এগিয়ে আসেন, তবে বহু মানুষের সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব। তিনি আরও যোগ করেন, কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতাই অসহায় মানুষদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা শেষে মুনিমের মুখে স্বস্তি ও আশার আলো ফুটে ওঠে এবং তিনি তাঁর পরিবারকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পান।
একটি সাধারণ আবেদন, সহানুভূতির অনুভূতির মেলবন্ধন এবং এক শিল্পপতির তাৎক্ষণিক সহায়তায় মুনিমের জীবনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো—যা সংকটকালে 'হ্যালো ডিসি'-র মতো প্ল্যাটফর্ম কীভাবে কার্যকরভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

