ডার্ক মোড
Thursday, 20 August 2026
ePaper   
Logo
মায়ের সাথে ঝগড়া, ক্ষুব্ধ হয়ে তাসপিয়াকে মাঝ নদীতে ফেলে হত্যা

মায়ের সাথে ঝগড়া, ক্ষুব্ধ হয়ে তাসপিয়াকে মাঝ নদীতে ফেলে হত্যা

মাহিদুল ইসলাম রিপন দিনাজপুর প্রতিনিধি

মাদ্রাসায় ভর্তি করাবে বলে সৎ বাবা সাফিউল ইসলামের (৪০) সাথে বের হয় শিশু মাসফিকা আক্তার তাসপিয়া (৯)। মাদ্রাসায় ভর্তি না করে নৌকায় করে করতোয়া নদীর মাঝে নিয়ে পানিতে ফেলে দেয় সৎ বাবা সাফিউল। এরআগে মাসফিকার মা লিজার সাথে প্রচন্ড ঝগড়া হয় সৎ বাবা সাফিউলের। মায়ের সাথে ঝগড়ার কারনেই ক্ষুব্ধ হয়ে শিশু তাসপিয়াকে মাঝ নদীতে ফেলে হত্যা করে সৎ বাবা।

বৃহস্পতিবার ভোরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতার সাফিউল ঘোড়াঘাট উপজেলার ভর্ণাপাড়া এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।

এরআগে গত ১৭ আগস্ট রাতে উপজেলার ভর্ণাপাড়া টঙ্গী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন করতোয়া নদীতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তাসপিয়ার মৃত্যুর পর থেকেই আত্মগোপনে থাকে সাফিউল।

দিনাজপুর ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, শিশু তাসপিয়া হত্যার ঘটনায় তার সৎ বাবা সাফিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মায়ের সাথে ঝগড়ার কারনেই ক্ষুব্ধ হয়ে তাসপিয়াকে মাঝ নদীতে ফেলে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাসপিয়ার নিজের বাবা মমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। সাফিউলকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, শিশু তাসপিয়ার জীবনও ছিল পারিবারিক টানাপড়েনে জর্জরিত। ২০২২ সালে তার মা লিজার সঙ্গে বাবা মমিনুলের বিচ্ছেদ হয়। এরপর তাসপিয়া আপন বাবার কাছেই থাকত। পরে লিজা সাফিউল ইসলামকে বিয়ে করেন। ২০২৫ সালের দিকে পরিবারের অগোচরে তাসপিয়াকে দ্বিতীয় স্বামীর কাছে নিয়ে আসেন তিনি। এরপর শিশুটিকে সৎ দাদা-দাদির কাছে রেখে জীবিকার তাগিদে লিজা ও সাফিউল ঢাকায় চলে যান। লিজা পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং সাফিউল রিকশা চালাতেন। অভাবের সংসারে ধীরে ধীরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ বাড়তে থাকে। গত ৯ আগস্ট ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেন সাফিউল।

 

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন