স্থবির হিলি স্থলবন্দরের বানিজ্য কার্যক্রম, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের চার দিন অতিবাহিত
মাহিদুল ইসলাম রিপন দিনাজপুর প্রতিনিধি : ভারতের ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে টানা চতুর্থ দিনের মতো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজারো শ্রমিক ও কর্মচারী। পাশাপাশি সময়মতো পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে না পারায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার কিংবা বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি চালুর বিষয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ফলে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্তও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্য কার্যক্রম চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের দাবিতে ধর্মঘট- ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় ভারতের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য পরিচালনায় তারা নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন। এ কারণে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যিকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন এবং লোকসানের মুখে পড়ছেন।
সংগঠনটির নেতারা বলছেন, অন্যান্য স্থলবন্দরে তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে বাণিজ্য কার্যক্রম চললেও হিলি দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে বারবার আবেদন-নিবেদন করেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ রেখেছেন তারা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও ভারতে পণ্য আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা- গত চার দিন ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় ভারতের অভ্যন্তরে এবং সীমান্ত এলাকায় শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে আছে। এসব ট্রাকে থাকা পণ্য সময়মতো বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারায় পচনশীল পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে এলসি খোলা ব্যবসায়ীরাও সময়মতো পণ্য না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বন্দর চালুর বিষয়ে কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে শুনেছি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বালুরঘাটে একটি বৈঠক এখন পর্যন্ত (বিকেল-সাড়ে পাঁচটা) চলছে। তারা এখনও কোন সিদ্ধান্তের বিষয় আমাদের জানায়নি। টানা চার দিন বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারক-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মো. ওয়াহেদুর রহমান রিপন বলেন, অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে এলসি খুলেছেন। ভারতীয় অংশে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য দেশে না পৌঁছালে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই দ্রুত ভারতীয় অংশের প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান করে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি চালু করার দাবি জানান তিনি।
কর্মহীন হাজারো শ্রমিক- বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকরা। ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ না করায় পণ্য খালাসের কাজও বন্ধ রয়েছে।
হিলি বন্দরের শ্রমিক গোলাপ হোসেন বলেন, প্রতিদিন কাজ করে যে আয় হয়, তা দিয়েই তাদের সংসার চলে। কিন্তু চার দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে বাণিজ্য বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের পরিবারে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।
কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম স্বাভাবিক। তবে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তা পারভেজ।
তিনি বলেন, পূর্বে আমদানি করা পণ্যের প্রয়োজনীয় কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নিয়ম অনুযায়ী খালাসের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন বাণিজ্য বন্ধ থাকলে শুধু আমদানিকারক-রপ্তানিকারকরাই নন, পরিবহন মালিক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বন্দরের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত হাজারো মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই দ্রুত দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে চলমান জটিলতার সমাধান করে হিলি স্থলবন্দরে স্বাভাবিক বাণিজ্য কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন
আপনি ও পছন্দ করতে পারেন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
আর্কাইভ!
অনুগ্রহ করে একটি তারিখ নির্বাচন করুন!
দাখিল করুন

