ডার্ক মোড
Sunday, 26 July 2026
ePaper   
Logo
নিত্যপণ্যে বাজেটে শুল্ক ছাড়ের সুফল পাচ্ছে না ভোক্তারা, ব্যবসায়ীদের দ্বিমুখী নীতি উন্মোচিত: ক্যাব

নিত্যপণ্যে বাজেটে শুল্ক ছাড়ের সুফল পাচ্ছে না ভোক্তারা, ব্যবসায়ীদের দ্বিমুখী নীতি উন্মোচিত: ক্যাব

বিজনেসনিউজ২৪বিডি.কম

কার্যকর বাজার তদারকির অভাব এবং ব্যবসায়ীদের দ্বিমুখী নীতির কারণে জাতীয় বাজেটে ঘোষিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক ও কর ছাড়ের সুফল সাধারণ ভোক্তারা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এই অভিযোগ করা হয়েছে। ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন এই বিবৃতি প্রদান করেন।

জাতীয় বাজেটে সরকার ধান, চাল, গম, আটা, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল এবং বীজসহ ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎস কর পূর্ববর্তী ৫%, ২% এবং ১% থেকে কমিয়ে অভিন্ন ০.৫% নির্ধারণ করেছে। এ ছাড়া সব ধরনের ভোজ্যতেলের উৎস কর ১% থেকে কমিয়ে ০.৫% করা হয়েছে। খুচরা ভোক্তাদের আর্থিক স্বস্তি দিতে আমদানি ও বিপণন খরচ কমানোই সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ এই সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছে বলে ক্যাব উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাব প্রাথমিকভাবে এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছিল এবং আশা করেছিল যে এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তবে ব্যবসায়ীরা এখন বাজারে পণ্যের দাম চড়া রাখতে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছেন। ব্যবসায়ীদের যুক্তি—বর্তমান বাজারের মজুদ আগের উচ্চ শুল্ক হারে আমদানি করা হয়েছে, তাই নতুন চালান না আসা পর্যন্ত দাম কমবে না। অথচ এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে অন্য ক্ষেত্রে; যেসব পণ্যে বাজেটে আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, সেগুলো আগের কম খরচে আমদানি করা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোর দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভোক্তা অধিকার রক্ষা বিষয়ক এই সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে, বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও দৃশ্যমান অভিযানের অভাবেই কাঁচাবাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মূল্য স্থিতিশীল করতে সক্রিয় নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালনের পরিবর্তে সরকার ব্যবসা-বান্ধব অবস্থান বজায় রাখছে। অনেক ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে অযথা শিথিলতা প্রদর্শন করছে, যা সরাসরি ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে।

এ ছাড়া, এবারের বাজেটে সব ধরনের আমদানিকৃত মসলা ও খেজুরের ওপর থেকে ৫% নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সরকারের এই রাজস্ব ছাড়ের পরও খুচরা বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। উল্টো দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ত্রী, পোস্তদানা, কাজুবাদাম এবং কাঠবাদামসহ বেশ কিছু অতি প্রয়োজনীয় মসলার দাম আরও বেড়েছে। শুল্ক ছাড়ের পরও খেজুরের খুচরা মূল্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ক্যাব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সরকার শুল্ক ছাড় দিয়ে নিজের রাজস্ব প্রাপ্তি কমালেও সাধারণ মানুষ যদি এর সুফল না পায়, তবে এই পুরো নীতিই ব্যর্থ হবে। বাজেট-পরবর্তী সময়ে শুল্ক ছাড় পাওয়া পণ্যগুলোর দাম কমবে বলে সরকারি আশ্বাস দেওয়া হলেও চালসহ কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামই কমেনি। এই ধারাবাহিক ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতি সরকারের স্বঘোষিত ‘জীবন-বান্ধব বাজেট’-এর প্রকৃত বাস্তবায়ন ও সাফল্য নিয়ে সাধারণ জনগণের মনে ব্যাপক সংশয় ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন