ডার্ক মোড
Monday, 03 August 2026
ePaper   
Logo
সাতক্ষীরায় অবৈধভাবে আ’লীগ নেত্রী রুবির দখলে নেওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরায় অবৈধভাবে আ’লীগ নেত্রী রুবির দখলে নেওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন

শাহ জাহান আলী মিটন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবি’র বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্রভাব খাটিয়ে এক ব্যক্তির পৈত্রিক ও রেকর্ডীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে সেখানে মাছের ঘের করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শহরের সুলতানপুর এলাকার মৃত. মো. আবুল কাশেমের ছেলে শরিফুল ইসলাম এই অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেবহাটা উপজেলার বালিথা মৌজায় (ধাপার ঘের) এস.এ ৭৯ ও ৮০ খতিয়ানের ৪১৩ দাগে, বিআরএস ৫৩০, ১৬৯, ১১০ খতিয়ানের ৩৮৪, ৩৮৫,৩৮৬ ও ৩৮৭ দাগে মোট ৮.২১ একর এর মধ্যে আমাদের ৮.১৫ একর সম্পত্তি রয়েছে। আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় ফ্যাসিস্ট আমলে প্রবাসে চলে যাই। কাগজপত্র সব কিছু আমাদের পক্ষে থাকলেও আমি প্রবাসে থাকার সুযোগে ২০১৮ সালে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে রওশন আরা রুবি তার ছেলে জায়েদ বিন কাদের আ’লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের ওই সম্পত্তি দখল করে নেয়। উক্ত সম্পত্তিতে তাদের কোন স্বত্ব স্বার্থ না থাকা সত্ত্বেও তারা সেখানে মাছ চাষ শুরু করে। বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় আওয়ামী সরকারের আমলে আমরা ভয়ে তাদের-কর্মকান্ডে বাধা দিতে সাহস পাইনি। শরিফুল ইসলাম আরো বলেন, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আমি দেশে ফিরে আসি। পরবর্তীতে গত ৩ জুন সকাল ১০টার দিকে আমার সম্পত্তিতে গেলে রুবি, তার ছেলে মোঃ জায়েদ বিন কাদের, তার সহযোগি মাহাফুজ সরদার, বনি আমিন ও আব্দুল আলিমসহ ১০/১৫ জন বেআইনী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে মাছের ঘের হতে আমাদের বের করে দেয়। পরে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি মিমাংসার জন্য দেবহাটা থানাকে নির্দেশ দেন। কিš‘ সুচতুর রুবি থানায় হাজির না হয়ে উল্টো আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে যা”েছ। তিনি আরো বলেন, এসব ঘটনার পর সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে সদস্য সচিব এর তত্ত্বাবধায়নে সাতক্ষীরা আদালতের জিপি’র উপ¯ি’তিতে দু’পক্ষে দু’জন আইনজীবী নিয়োগ করে আপোষের চেষ্টা করা হয়। কিš‘ উক্ত শালিসী বৈঠকে রুবি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিদ্ধান্ত না মেনে হুমকি দিয়ে চলে যায়। রুবির এমন
উদ্ধতপূর্ণ আচারণের কারণে বিএনপি নেতৃবৃন্দ শালিস করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রওশন আরা রুবির প্রথম স্বামী ফজলুল কাদেরের মৃত্যুর পর থেকে সে তার সম্পত্তিসহ আত্মীয় স্বজনদের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। আর এসব সম্পত্তি দখলে রাখতে রুবি সাবেক পৌর কাউন্সিলর মৃত মোমিন উল্লাহ মোহন, জেলা আ’লীগ নেতা আসাদুল চেয়ারম্যানদের মত ব্যক্তিদের সাথে বিয়ে করেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও জেলা মহিলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ দখল করে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দখলের রাজস্ব চালিয়েছেন। তবে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও ওই রুবির পতন হয়নি। সে বীর দর্পে আইন আদালত এবং জনপ্রতিনিধিদের তোয়াক্কা না করে দখলদারিত্ব চালিয়ে যা”েছ। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও আমরা জমিতে যেতে পারি না। আমরা জাতীয়তাবাদের আদর্শের মানুষ হলেও ওই ফ্যাস্টিট রুবির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। তিনি আওয়ামী ফ্যাস্টিট রুবির দখল থেকে পৈত্রিক ও রেকর্ডীয় সম্পত্তি সম্পত্তি উদ্ধার এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যব¯’া গ্রহণে প্রধামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন