অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের পরিবর্তে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
স্টাফ রিপোর্টার
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনে পানির সংকট চাষিদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকায় পানীয় জলের জন্য নারীদের ১,২০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতা পর থেকে চলে আসা এই কষ্ট জানতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রাঙ্গামাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং দ্রুত ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করা হয়।
সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত না করে অতীতে প্রকল্প গ্রহণের অভ্যাসের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, "অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত প্রকল্প গ্রহণের পরিবর্তে আমাদের এমন বাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে যা স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি।"
২০২৬-২৭ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন এবং ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আজ ঢাকায় বেইলি রোডের সিএইচটি কমপ্লেক্স ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রাক্কলন ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এমপি সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষি ও ফল প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি অর্গানিক ফলের বাগান সম্প্রসারণ, হিমাগার নির্মাণ এবং ড্রাই ফ্রুট প্রসেসিং সুবিধা গড়ে তোলা হলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
পার্বত্য অঞ্চলের ২৬টি উপজেলার পাড়া কেন্দ্রগুলোতে নারীদের জন্য শৌচাগার সুবিধা নিশ্চিতকরণ, পাড়া কেন্দ্র স্কুলে মেয়েদের সামাজিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং মডেল পাড়া কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের প্রকল্প গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী।
পার্বত্য অঞ্চলে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, দুর্গম এলাকায় গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষকের অভাব কাটাতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং কেন্দ্রীয় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ধারণকৃত ক্লাস সম্প্রচার করা যেতে পারে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এমপি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে হিমাগার, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানীয় জল এবং স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে তুলা চাষ সম্প্রসারণ ও কৃষক দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প; রাঙ্গামাটিতে সংযোগ সড়কসহ আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ; ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইম্প্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট (CRLIWM-CHT) প্রকল্প; টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান (২য় পর্যায়) প্রকল্প; খাগড়াছড়িতে মহালছড়ি-বাঘমারা এবং হেমরঞ্জন পাড়া সড়ক নির্মাণ; এবং সিএইচটি আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স (১ম সংশোধিত) নির্মাণ প্রকল্প।
তাছাড়া সবুজ পাতার জন্য নির্বাচিত ২১টি প্রকল্পের মধ্যে সরকারের বর্তমান ইশতেহারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ১৬টি প্রকল্প বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। অনুমোদিত এসব প্রকল্পের জন্য সংস্থাভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ১২টি প্রকল্প (আনুমানিক ব্যয় ১,১৫৬ কোটি টাকা), বান্দরবান জেলা পরিষদের ১টি প্রকল্প (ব্যয় ৪২ কোটি টাকা), রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের ৪টি প্রকল্প (ব্যয় ১৯৫ কোটি টাকা) এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের ৪টি প্রকল্প (ব্যয় ১৯৬ কোটি টাকা)।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোমিনুর রহমান, অতুল সরকার ও কাজী তোফায়েল হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ সালেহ আহমেদ, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় একটি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর প্রদর্শন ও প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম।

