শিক্ষা খাতে সরকার সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করতে চায় - প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী
মো.দুলাল হোসেন রাজু জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা শিক্ষার বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। অবকাঠামো থেকে শুরু করে প্রযুক্তি যেখানে পরিবর্তন প্রয়োজন, সেখানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরিবর্তন আনার কার্যক্রম চলছে।
মঙ্গলবার(২৮শে জুলাই) সকাল ১০টায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়ে পৌঁছালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খাঁশিয়া সম্প্রদায়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী খাঁশিয়া পান-সুপারির মালা পরিয়ে তাঁকে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেয়। বিদ্যালয়টির প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী খাঁশিয়া সম্প্রদায় ও চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তান। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অংশ নেন, তাদের সঙ্গে হাসি-আনন্দের পরিবেশে মতবিনিময় করেন এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও শিক্ষার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয়রা নতুন একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবির প্রেক্ষিতে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কোনো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের পরিকল্পনা নেই। তবে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, ২০২৮ সালের মধ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত নীতিমালার অধীনে পরিচালিত হতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে মৌলিক দক্ষতা অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষ ভিত্তিক মূল্যায়ন এবং ফাউন্ডেশনাল লার্নিং নিশ্চিত করতে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। সিলেট বিভাগে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত মান অনুযায়ী পাঠদান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় পরিদর্শন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রাথমিক শিক্ষা সিলেট সাইফুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাখাওয়াত এরশাদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকার সহকারী পরিচালক (ট্রেনিং) আব্দুল আলীম, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, কানাইঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নুর আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সরওয়ার বেলাল, জৈন্তাপুর মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক আল আমিন মীর, ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আলমগীর হোসেন, জৈন্তাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জুলহাস, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজমল আলী এবং গভর্নিং বডির সভাপতি ইমাম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রতিমন্ত্রীর পরে তেলিজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অন্যান্য সরকারি স্কুল পরিদর্শন করেন ।
মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন
আপনি ও পছন্দ করতে পারেন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
আর্কাইভ!
অনুগ্রহ করে একটি তারিখ নির্বাচন করুন!
দাখিল করুন

