শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ: আবেদন গ্রহণের পর যোগ্যতা সংশোধন, ক্ষোভ
নিজ্বস প্রতিনিধি
আবেদন গ্রহণের পর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের যোগ্যতা সংশোধন করা হয়েছে।
এসব পদে নিয়োগ পেতে এখন থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের কমপক্ষে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
এ পরিবর্তন এনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের যোগ্যতা সংশোধন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মঙ্গলবার রাতে নীতিমালা সংশোধনের পরিপত্র জারি করে।
এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতো।
হঠাৎ যোগ্যতায় পরিবর্তন আনায় আবেদন করা শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারের সাড়ে ১৩ হাজার শূন্য পদে নিয়োগ দিতে গত ২৯ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এনটিআরসিএ।
এবারই প্রথম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নিয়োগের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি। ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষক এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছেন।
আগামী ১৭ ও ১৮ এপ্রিল এ নিয়োগ পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালা সংশোধন করে জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষ, ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেতে ওই পদে এমপিওভুক্ত হিসেবে কর্মরত অথবা এমপিওভুক্ত হিসেবে ডিগ্রি কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ বা স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রভাষক, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক পদে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে একই ধরনের স্কুলে এমপিভুক্ত হিসেবে সহকারী প্রধান শিক্ষক বা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ এমপিওভুক্ত পদে সর্বমোট ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আর এসব স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে এমপিওভুক্ত হিসেবে ১৮ বছর অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে।
আর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের অভিজ্ঞতা ১০ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৮ বছর করা হয়েছে। এ পদে নিয়োগ পেতে এখন থেকে এমপিওভুক্ত পদে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আনায় আবেদন করা শিক্ষকদের একটা বড় অংশ নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ হারালেন।
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার সুবরাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অহিদুল ইসলাম ১৩ বছরের এবং তার স্ত্রী মহাদেবপুর উপজেলার হাট চকগৌরি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তাহমিনা ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা।
তারা দুজন যথাক্রমে মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করেছিলেন।
অহিদুল ইসলাম বলেন, “অনেক আশা করে আবেদন করেছিলাম, কিন্তু এখন আর কোনো আশাই নেই। আবেদন আর প্রস্তুতিতে অনেকগুলো টাকাও উচ্ছন্নে গেল।”
তিনি বলেন, তাদের দুইজনের আবেদন করতে খরচ হয়েছে, ফি বাবদ ১৪০০ টাকা। অনলাইনে আবেদনসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয়ে আরও ১ হাজার টাকা। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দুজন কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, সেখানে গেছে আরও হাজার দশেক টাকা।
এই আবেদন করতে যে খরচ হয়েছে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফেরত চেয়ে তিনি বলেন, “তা না হলে আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান বলেন, “অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সে বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। আমরা মন্ত্রী মহোদয়কে অবগত করবো। দেখা যাক, তিনি কি সিদ্ধান্ত দেন।”

