বলেশ্বর নদীতে নৌকাডুবি বন বিভাগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে গিয়ে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু, ৪ঘন্টা পর মরদেহ উদ্ধার
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদীতে বন বিভাগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে নবাব (৫৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর স্থানীয় জেলে ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল প্রায় ৯টার দিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলে বৃক্ষরোপণের উদ্দেশ্যে বন বিভাগের সদস্য ও ১২ জন শ্রমিক একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে রওনা দেন। পথিমধ্যে আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর নৌকায় থাকা অধিকাংশ শ্রমিক ও বন বিভাগের সদস্যরা সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও জাহাঙ্গীর হোসেন নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও উদ্ধারকারীরা টানা চার ঘণ্টা অনুসন্ধান চালিয়ে বিকেল ৩টার দিকে নদীতে পাতা একটি ঘোপ জালে (চরগরা) তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে নবাবের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সদর ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলা এলাকার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা সুমন মোল্লা জানান, নবাব অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। বন বিভাগের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় তিনি প্রায়ই দৈনিক মজুরিভিত্তিক বৃক্ষরোপণের কাজে অংশ নিতেন। তার এমন অকাল মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
বন বিভাগ কর্মকর্তা মো. আল-আমিন বলেন, "এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা। নবাব সাঁতার জানতেন না, বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। অন্যরা তীরে উঠতে পারলেও তিনি আর ফিরতে পারেননি। তার পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।"
নৌকায় থাকা এক শ্রমিক বলেন, পুরো ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে যায়। সবাই প্রাণ বাঁচাতে সাঁতরে উঠলেও নবাব ভাইকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিলেও নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অনুরোধে তা করা হয়নি। স্বজনরা লিখিতভাবে জানান, এ ঘটনায় তাদের কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, "আইন অনুযায়ী ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে নিহতের পরিবারের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে এবং কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারে চলছে আহাজারি, আর স্থানীয়দের মধ্যেও বিরাজ করছে গভীর শোক।
মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন
আপনি ও পছন্দ করতে পারেন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
আর্কাইভ!
অনুগ্রহ করে একটি তারিখ নির্বাচন করুন!
দাখিল করুন

