পিরোজপুরে মাদকবিরোধী র্যালি ও সচেতনতামূলক স্টিকার রোপণ অভিযান
জুবায়ের, পিরোজপুর
মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা এবং সর্বসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পিরোজপুরে একটি মাদকবিরোধী মার্চ ও সচেতনতামূলক স্টিকার রোপণ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার সকাল ৯টায় সামাজিক উদ্যোগ "মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন"-এর আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের নেতৃত্বে র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পথিমধ্যে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, করিমুন্নেসা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং সরকারি মহিলা কলেজসহ শহরের বিভিন্ন প্রখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতিক্রম করে। মার্চ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক স্টিকার লাগিয়ে দেন। কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশিদ; মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. মনিরুজ্জামান নাসিম আলী; প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম; সদস্য অধ্যক্ষ হোসনেয়ারা জেসমিন; যুগ্ম আহ্বায়ক ও অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক সার্জেন্ট (অব.) মো. হাবিবুর রহমান; প্রভাষক মো. লুৎফর রহমান; উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জেলা সংসদের সভাপতি ও সাংবাদিক খালিদ আবু; পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান; পজিটিভ পিরোজপুরের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক জুবায়ের আল মামুন এবং ন্যাশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি হাসান মামুনসহ স্থানীয় অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অভিযান চলাকালে জেলা প্রশাসক শহরের ফুটপাতে অবৈধভাবে রাখা নির্মাণ সামগ্রী ও আসবাবপত্র অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সিগারেট বা অন্য কোনো তামাকজাত পণ্য বিক্রি না করার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন এবং বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের বক্তারা উল্লেখ করেন যে, মাদকাসক্তি তরুণ সমাজ ও জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। সমাজকে এই ব্যাধি থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে তাঁরা জোর দেন।

