বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক শেখ শামসুল হকের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: বাংলা একাডেমি থেকে মরণোত্তর সম্মাননার দাবি
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর
গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে স্মরণ করা হলো বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক শেখ শামসুল হককে। ভুবনেশ্বরের জল-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা এই কোমলপ্রাণ সাহিত্যিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাহিত্য ভবনে এক আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তি সন্ধ্যার আয়োজন করে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ।
ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মো. আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা কবি শেখ শামসুল হকের জীবন ও তাঁর বর্ণাঢ্য সাহিত্যকর্মের নানা দিক তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন।
স্মরণসভায় বক্তারা সাহিত্যাঙ্গনে কবি শেখ শামসুল হকের অবদানের কথা স্মরণ করে জোর দাবি জানান যে, এমন একজন প্রচারবিমুখ ও প্রখ্যাত কবির জন্য বাংলা একাডেমি থেকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা উচিত। এক আবেগঘন পরিবেশে বক্তারা তাঁর জীবনের সাথে জড়িত বহু স্মৃতিবিজড়িত মুহূর্ত ও পেছনের গল্প স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে 'অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠন'সহ বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের তালিকায় ছিলেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক এম. এ. সামাদ, দৈনিক ফতেহাবাদ সম্পাদক অধ্যাপক এ বি এম সাত্তার, কবি ও প্রকৌশলী ফরিদউজ্জামান, ড. মো. ইমানুল হক আজাদ, কবি হাসনাইন সাজ্জাদী, কবি ও গীতিকার অনিমেষ বারাল, কবি ও গীতিকার ইউনুস ফারসী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক মফিজ ইমাম মিলন, কবি রীনা তালুকদার, লোকসংগীত গবেষক খলিলুল্লাহ দিল দরোজ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. খবীরুল ইসলাম এবং দৈনিক সমকাল-এর সাংবাদিক হাসানুজ্জামান।
স্মরণসভার দ্বিতীয় পর্বে দেশের প্রখ্যাত কবি ও আবৃত্তিশিল্পীরা শেখ শামসুল হকের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন কবি আফিয়া রুবি, মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেসমিন দীপা, কবির হুমায়ূন, গিয়াসউদ্দিন চাষা, শেখ নজরুল ইসলাম, রুনা লায়লা, অধ্যাপক ড. মোস্তফা দুলাল, এইচ. এম. শাখাওয়াত হোসেন, নাজমুন নাহার পারভীন (নাজ), নিপা চৌধুরী, জেনুন্নেসা মিনা, কাজী হেমায়েত হোসেন, মামুনুল ইসলাম, ইসমাত আরা এবং নিয়াজ রায়হান সাগর।
এছাড়া ভারত থেকে আগত আবৃত্তিশিল্পী, কবি ও সাংবাদিকরা—যাঁদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল কাইয়ুম, অধ্যাপক জেসমিন বন্যা, অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ, জারিফ জাওয়াদ ওহি এবং ওয়াজিহা আহনাফ শ্বেতা—তাঁদের চমৎকার আবৃত্তি ও কবিতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। পুরো আয়োজনটি ফরিদপুরের স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতি কর্মীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

