পরিকল্পিত নগরায়ণে পূর্বাচল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে ঢাকা: আইজিপি
রুহুল আমিন, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পিত নগরায়ণ কৌশলের অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকা পর্যায়ক্রমে পূর্বাচল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বুধবার সকালে পূর্বাচল নতুন শহরের ১ নম্বর সেক্টরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ‘বোরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ আহমেদ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, ঢাকা শহরের ওপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমাতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। এই নতুন উপশহরটি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসনিক আওতাভুক্ত হবে। দ্রুত বর্ধনশীল এই নতুন শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাসিন্দাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ১ নম্বর সেক্টরে আনুষ্ঠানিকভাবে বোরকাউ পুলিশ ক্যাম্পের যাত্রা শুরু করা হলো।
আইজিপি জানান, ভবিষ্যতে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের (অ্যাডিশনাল কমিশনার) তত্ত্বাবধানে পূর্বাচলের জন্য একটি পৃথক পূর্ণাঙ্গ পুলিশ বিভাগ গঠন করা হবে। এই নতুন বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগের একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, বর্তমানে নির্মাণাধীন ‘পারশী পুলিশ ক্যাম্প’ আগামী দুই মাসের মধ্যে পুরোপুরি চালু করা হবে। এটি চালু হলে এই এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার হবে, যা সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শহর উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সংগতি রেখে পূর্বাচল পর্যন্ত ঢাকার সম্প্রসারণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নিরাপদ করবে।
পুলিশ প্রধান বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে কার্যকর আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ইতিমধ্যে নীতিগতভাবে বড় কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে এই নতুন উপশহরে ৪টি থানা, ৬টি তদন্ত কেন্দ্র, ২টি পুলিশ লাইনস, ৩টি উপ-কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয় এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপন করা হবে।

