পটুয়াখালীজুড়ে সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ, ওয়ার্ডের ডিলার বাজারে—নজরদারিতে কৃষি বিভাগের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
মনজুর মোর্শেদ তুহিন (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
সরকারি হিসাবে চাহিদা, বরাদ্দ ও উত্তোলন রয়েছে। কোথাও আবার সরকারি গুদাম ও ডিলার পর্যায়ে সার মজুদের তথ্যও মিলছে। কিন্তু পটুয়াখালীর বাউফল, গলাচিপা ,কলাপাড়া ,রাঙ্গাবালী সহ প্রতিটি উপজেলার মাঠ পর্যায় গিয়ে সেই সারই কৃষককে কিনতে হচ্ছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে। কোথাও আবার নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে মিলছে না সার। অধিকাংশ ওয়ার্ড পর্যায়ে ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের কোন গুদাম ও বিক্রয় কেন্দ্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তবে অফিসিয়াল তালিকায় তাদের ওয়ার্ড ভিত্তিক গুদাম ও বিক্রয় কেন্দ্রের নাম রয়েছে। এক ওয়ার্ডের ডিলারের লাইসেন্সে অন্য ওয়ার্ডের বাজারে বিক্রি, একই বাজারে পাশাপাশি একাধিক সার বিক্রয়কেন্দ্র এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ ঘিরে পটুয়াখালীর সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি সার বিতরণ ব্যবস্থার তদারকির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা সার ধরে রেখে সংকট তৈরি করছেন। আবার কেউ কেউ নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে সুবিধাজনক বাজারে সার বিক্রি করছেন। এসব অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারির ঘাটতি বা যোগসাজশ আছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে ডিলারভিত্তিক বরাদ্দ, উত্তোলন, মজুদ ও বিক্রির হিসাব যাচাই প্রয়োজন।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালীতে বিসিআইসি সরকারি ডিলারের সংখ্যা ৮০ জন, বিএডিসি ২ জন, খুচরা সার বিক্রেতা ৬৮০ জন। ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১
হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি ১ হাজার টাকা। অথচ মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে ইউরিয়া ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং এমওপি ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ডিএপি সার নিয়ে। আগস্ট মাসে পটুয়াখালী জেলায় ডিএপি সারের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৩৩ মেট্রিক টন। বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে ৮৪৬ মেট্রিক টন এবং উত্তোলন হয়েছে ৬৬০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ ও উত্তোলনে ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু এই ঘাটতির পাশাপাশি কোথাও কোথাও অতিরিক্ত দামে ডিএপি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি বরাদ্দের বাইরে বাজারে পাওয়া এসব সার কোথা থেকে আসছে?
ইউরিয়ার ক্ষেত্রেও জেলা পর্যায়ে ঘাটতির চিত্র নেই। আগস্টে জেলার ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৩ হাজার ৬৬২ মেট্রিক টন। বরাদ্দ হয়েছে ৩ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন এবং উত্তোলন হয়েছে ৩ হাজার ৯৪৬ মেট্রিক টন। টিএসপির চাহিদা ছিল ৭৪১ মেট্রিক টন, বরাদ্দ ৭০৫ ও উত্তোলন ৬৬৩ মেট্রিক টন। এমওপির চাহিদা ৬৪০ মেট্রিক টনের বিপরীতে বরাদ্দ ৫৪৯ এবং উত্তোলন ৩৩১ মেট্রিক টন।
অর্থাৎ কাগজে বরাদ্দ ও উত্তোলনের হিসাব থাকলেও প্রান্তিক কৃষকের হাতে নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অসঙ্গতি। এই অসঙ্গতির কারণ অনুসন্ধানে মাঠপর্যায়ের বিক্রয় রেজিস্টার, মজুদ রেজিস্টার এবং বরাদ্দের হিসাব মিলিয়ে দেখা জরুরি।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজিরহাট বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারটির অল্প দূরত্বের মধ্যে একাধিক দোকানে সার বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বাজারে প্রায় আটটি দোকানে সার বিক্রি হয়। এর মধ্যে তিনটি দোকান আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সরকারি সার ডিলার মো. শফিকুল ইসলামের প্রতিষ্ঠান ‘জোহান শাফা এন্টারপ্রাইজ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সেখানে ডিলারের গুদাম ও পৃথক বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ডিলার উপস্থিত না থাকায় মো. হাসান নামে একজনকে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেখা যায়।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজিরহাট বাজারে ১, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার বা তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সার বিক্রি করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্যেও বিষয়টি উঠে এসেছে।
হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী অপু মুন্সী বলেন, ‘এটা আমার দোকান। ১ নম্বর ওয়ার্ডের হানিফ ভাইয়ের ডিলারের লাইসেন্স আমার কাছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বাজার, তাই তার লাইসেন্সের সার আমি বিক্রি করি।’
আরেক ব্যবসায়ী আবুল বাসার বলেন, ‘আমার ভাই ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার। এখানে বাজার, তাই এখানে বিক্রি করছি। অন্যান্য সবাই বিক্রি করছে, তাই আমিও কিছু করছি।’
ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খুচরা বিক্রেতা। পাশের দোকানদার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের।’
এই বক্তব্যগুলো সত্য হলে নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র ও অনুমোদিত এলাকার শর্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে একটি বাজারে অল্প দূরত্বের মধ্যে এতগুলো বিক্রয়কেন্দ্রের অনুমোদন, প্রত্যেকের বরাদ্দ এবং বিক্রির বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন।
হাজিরহাট বাজারে সার কিনতে আসা কৃষক নাজমুল হাওলাদার বলেন, ‘ইউরিয়া ১ হাজার ৪০০ টাকা, চায়না ডিএপি ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং এমওপি ১ হাজার ৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি।’ অর্থাৎ তার দেওয়া দামে সরকারি মূল্যের তুলনায় ইউরিয়ায় ৫০ টাকা এবং ডিএপিতে ৭৫০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে।
কৃষক মো. ইব্রাহিম খান বলেন, ‘ইউরিয়া ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং ডিএপি ১ হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। বড় ডিলার থেকে বেশি খরচে কিনতে হয় বলে খুচরা বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রির কথা জানিয়েছেন।’
এদিকে ‘জোহান শাফা এন্টারপ্রাইজ’-এর পরিচালক মো. এনামুল হক হাসান বলেন, তাদের একটি দোকান ও দুটি গোডাউন রয়েছে। চলতি মাসে ডিএপি সারের বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা এখনো আসেনি। ইউনিয়নের নয়জন সাব-ডিলারকে চলতি মাসে ৪০ ব্যাগ করে ইউরিয়া দেওয়া হয়েছে। অন্য সার তারা নেয়নি। সাব-ডিলাররা ১ হাজার ৮০০ বা ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করলে সেটি তার জানা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে একই বাজারে ডিএপি পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি তার বক্তব্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য তৈরি করে। যদি সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে চলতি মাসে ডিএপি না এসে থাকে, তাহলে বাজারে পাওয়া ডিএপি কার বরাদ্দের, কোথা থেকে এসেছে এবং কোন মূল্যে বিক্রি হচ্ছে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।
এনামুল হক হাসান আরও দাবি করেন, বাজারে ডিএপির মতো দেখতে এক ধরনের জৈব সার বিক্রি হচ্ছে, যার বস্তামূল্য প্রায় ৫৫০ টাকা হলেও কৃষকের কাছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তার দাবি, এসব সার ঢাকার সাভার এলাকা থেকে আনা হয় এবং কিছু বিসিএস সরকারি ডিলারের গুদামেও এমন সার পাওয়া যেতে পারে। তবে এই দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। কৃষি বিভাগের অনুমোদন ছাড়া কোনো সার বা সারজাতীয় পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে কি না, সেটিও পরীক্ষার বিষয়।
আরও প্রশ্ন উঠেছে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের তদারকি নিয়ে। আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন বলেন, অফিসের আদেশে অন্য কাজে থাকায় সকালে আদাবাড়িয়া যেতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, সেখানে ডিএপি দেখেননি এবং প্রতিবেদককে বাজারে গিয়ে দেখার কথা বলেন। কিন্তু একই বাজারে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিএপি বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ কর্মকর্তারা কতবার কোন কোন বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন, মজুদ রেজিস্টার ও বিক্রয় রেজিস্টার পরীক্ষা করেছেন কি না এবং অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন এসব তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।
বাউফল উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মিলন বলেন, কৃষি অধিদপ্তরে ২০০৯ এর নীতিমালা অনুযায়ী এক ওয়ার্ডের ডিলার অন্য ওয়ার্ডে গিয়ে সার বিক্রির নিয়ম নেই। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে অতি সাম্প্রতিক বগা ইউনিয়নে তিনজন ডিলারের মধ্যে একজন ১০ হাজার ও দুইজন ২ হাজার করে মোট ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ডিলারদের বিক্রয় ও মজুদ নিয়মিত যাচাই করা হয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সংকটের কারণে আদাবারিয়া ইউনিয়নে তিনটি ব্লকের বিপরীতে একজন কাজ করছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সারের দাম বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করছে বলে মাঠতথ্যে প্রতীয়মান হয়। ডিএপির ক্ষেত্রে সরবরাহ ও উত্তোলনে ঘাটতি, পরিবহন ব্যয়, নির্ধারিত এলাকার বাইরে বিক্রি, একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী, অতিরিক্ত মুনাফা এবং সম্ভাব্য মজুদদারি সহ সবগুলো বিষয়ই তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মজুদদারি বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নথি ও লেনদেন যাচাই করা জরুরি।
সামনে অক্টোবর থেকে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ শুরু হলে ডিএপি সারের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এখনই ডিলারভিত্তিক মজুদ ও বিক্রির হিসাব কঠোরভাবে যাচাই না করা হলে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত দামের সার বিক্রি যদি কোন ডিলার বা দোকানের নাম বলতে পারেন তাহলেই আমরা ব্যবস্থা নেব। সার নিয়ে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট সহ যেকোনো ব্যবস্থা নিতে সচেষ্ট থাকবো। খুচরা বিক্রেতাদের গোডাউন দেখেই তাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। যেকোনো জায়গায় বিক্রয় করতে পারবে না। অতিরিক্ত দামের সার বিক্রয় করলে এবং আইনের ব্যত্যয় ঘটলে বিধি ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি, অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রের বাইরে বিক্রি, অননুমোদিতভাবে সার মজুদ বা বাজারজাতকরণ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও বিক্রেতার বিরুদ্ধে প্রচলিত সার ব্যবস্থাপনা আইন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ডিলারশিপ বাতিল, জরিমানা, গুদাম সিলগালা, মালামাল জব্দ এবং পরিস্থিতি ও অপরাধের ধরন অনুযায়ী মামলা বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হতে পারে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়মে সহায়তা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোন ক্ষেত্রে কোন ধারায় কী শাস্তি হবে, তা তদন্তে অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
এখন মূল প্রশ্ন একটাই জেলা পর্যায়ে সার বরাদ্দ, উত্তোলন ও মজুদের হিসাব থাকার পরও কৃষক কেন নির্ধারিত মূল্যে সার পাচ্ছেন না? এক ওয়ার্ডের ডিলারের লাইসেন্সে অন্য ওয়ার্ডে বিক্রি হলে তা কার অনুমোদনে? একই বাজারে অল্প দূরত্বের মধ্যে একাধিক সার বিক্রয়কেন্দ্র কীভাবে চলছে? ডিলারদের উত্তোলিত সার কোথায় যাচ্ছে, কতটুকু মজুদ থাকছে এবং কত দামে কৃষকের কাছে বিক্রি হচ্ছে? এসব হিসাব কি নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে?
কৃষকের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা বেরিয়ে গেলে শুধু তার উৎপাদন ব্যয়ই বাড়ে না; শেষ পর্যন্ত এর চাপ পড়ে ধান, চাল, তরমুজসহ কৃষিপণ্যের বাজারেও। সরকারি ভর্তুকিতে সরবরাহ করা সার যদি নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকের হাতে না পৌঁছে, তাহলে পুরো বিতরণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। তাই পটুয়াখালীর প্রতিটি ডিলারের বরাদ্দ, উত্তোলন, গুদামভিত্তিক মজুদ, খুচরা বিক্রেতার তালিকা, অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র এবং বিক্রয় রেজিস্টার মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি।

