ঝিনাইগাতীতে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ পাইপলাইন: কৃষকের জমি চাষের অনুপযোগী, প্রতিকার চেয়ে ইউএনও-র কাছে অভিযোগ
খোরশেদ আলম, শেরপুর
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একটি অপরিকল্পিত উদ্যোগ উল্টো এক কৃষকের জীবিকা ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ পাইপলাইন নির্মাণের ফলে ওই কৃষকের প্রধান চাষযোগ্য জমিটি এখন সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী কৃষকের নাম মনির হোসেন। তিনি উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধাকুড়া গ্রামের আরমান গাজীর ছেলে। ফসলি জমির এই মারাত্মক ক্ষতির প্রতিকার এবং জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি ঝিনাইগাতীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হালদিগ্রাম চৌরাস্তা বাজার-গারোকোনা সড়কের পশ্চিম পাশে ভারি বৃষ্টির পানি জমে নিয়মিত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো, যা স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দার জন্য চরম ভোগান্তি ডেকে আনছিল। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে একটি ড্রেনেজ পাইপলাইন প্রকল্প গ্রহণ করে, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনটি রাস্তার নিচ দিয়ে নিয়ে গিয়ে পুরো পানি নিষ্কাশনের মুখটি সরাসরি মনির হোসেনের কৃষি জমির দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বিপুল পরিমাণ বালু, পলি এবং গৃহস্থালির বর্জ্য এসে মনির হোসেনের প্রায় এক একর ফসলি জমি প্লাবিত করেছে।
এই ড্রেনেজ বিন্যাসের সরাসরি ফল হিসেবে মনির হোসেনের ফসলি জমিতে অনবরত আবর্জনা ও বালু জমতে থাকায় মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বিস্তীর্ণ এই প্লটটি নিয়মিত চাষাবাদের জন্য একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা ওই কৃষক পরিবারকে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ফেলেছে। এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি সদস্য) আব্দুল কাদির পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান যে বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং ওই কৃষকের জমি যাতে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

