ডার্ক মোড
Saturday, 19 September 2026
ePaper   
Logo
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

হাসান মজুমদার বাবলু, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল ও ভুক্তভোগীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ফতুল্লার রঘুনাথপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী কাশেম মোল্লার স্ত্রী কুহিনুর আক্তার পাপিয়া বাদী হয়ে ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক শামসুল হক সরদার বলেন, গত রাতে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, খোদ সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই এই হামলা ও দখলের ঘটনা ঘটে।


ভুক্তভোগী কাশেম মোল্লা সবুজ জানান, ২০১৬ সালে তিনি দেলোয়ারা বেগমের কাছ থেকে ভূঁইগড় মৌজার (জে.এল নং-১৪৮, সিএস দাগ নং-১৪৫, আরএস-১০৯৪) চার শতাংশ জমি কেনেন। সেখানে আটটি কক্ষ ও তিনটি বাথরুমসহ একটি বসতঘর ছিল তার। সম্প্রতি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে পুরনো স্থাপনা ভেঙে মাটি পরীক্ষা করিয়ে জমিটি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখেন তিনি।


তার অভিযোগ, গত বছরের নভেম্বরে ২০-২৫ জন দুর্বৃত্ত টিনের বেড়া ভেঙে মোক্তার হোসেনের নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয় এবং তাকে সাবেক কাউন্সিলর ইকবালের সঙ্গে দেখা করতে বলে। যোগাযোগ করলে ইকবাল দাবি করেন, বায়নাসূত্রে ওই জমির পৌনে তিন শতাংশের মালিক তিনি। বাধ্য হয়ে কাশেম মোল্লা আদালতের দ্বারস্থ হন।
মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ভূমি অফিস সরেজমিন তদন্ত করে ভুক্তভোগীর পূর্বের বসতবাড়ির আলামতের সত্যতা পায়। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কর্মকর্তা মিলটন রায়ের উপস্থিতিতে পুনরায় সরেজমিন তদন্তের দিন ধার্য ছিল।


অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে ইকবাল হোসেন ৮-১০ জন অনুসারী নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন এবং পূর্বের সাইনবোর্ড সরিয়ে নিজের নামে নতুন সাইনবোর্ড বসান, যাতে লেখা নাছির আহাম্মদ কর্তৃক বায়নাসূত্রে জমির মালিক মোঃ ইকবাল হোসেন (জমির পরিমাণ ৩.৭৫ শতাংশ)।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভূমি কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীর সামনেই তাকে ও তার জামাতাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। কেউ যাতে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে না পারে, সেজন্য উপস্থিত অনেকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে কাশেম মোল্লাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ইকবাল হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ফতুল্লা সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এর আগে এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও বর্তমানে তিনি ফের দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। একাধিক গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলেও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ জানান স্থানীয়রা।


ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে কাশেম মোল্লা বলেন, আমার তিন কন্যা, কোনো উপার্জনক্ষম ছেলে নেই। এই জমিটিই আমার শেষ সম্বল। আমি চাই প্রশাসন জমির সব কাগজপত্র যাচাই করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুক।


এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন