ডার্ক মোড
Wednesday, 15 July 2026
ePaper   
Logo
তদন্তের প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে পার পেয়ে যেতে পারেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দিন

তদন্তের প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে পার পেয়ে যেতে পারেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের চলমান বিভাগীয় তদন্তে বেশ কিছু প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। অভিযোগকারী সংস্থা ‘ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা’র দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী এবং মূল তথ্য-প্রমাণ সশরীরে হাজির করার জন্য তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের চাপ দেওয়া একটি অবাস্তব শর্ত, যা মূলত তদন্ত প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, যেহেতু প্রধান প্রশাসনিক রেকর্ডপত্র সরকারি হেফাজতে থাকে, তাই সেগুলো উদ্ধার ও পরীক্ষা করার আইনি এখতিয়ার কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তারই রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার মহাসচিব মো. হেমায়েত হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যেখানে হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে দুদক অভিযোগটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে (বিচার শাখা-৭) পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭ থেকে অভিযোগকারীকে ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই প্রয়োজনীয় দালিলিক ও মৌখিক প্রমাণাদিসহ সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ জারি করা হয়।

আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিবের কাছে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত জবাবে অভিযোগকারী সংস্থাটি যুক্তি দেয় যে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রমাণের বিষয়টি মৌখিক সাক্ষ্যের চেয়ে সরকারি নথিপত্রের ওপর বেশি নির্ভরশীল। বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী, মূল রেজিস্ট্রি ভলিউম বই, নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল এবং অডিট ডকুমেন্টের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরকারি হেফাজতে থাকে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, সাধারণ নাগরিকদের এই রাষ্ট্রীয় নথিপত্র জব্দ বা উপস্থাপন করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই।

জেলা রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে তাঁর পূর্ববর্তী কর্মস্থল শেরপুরে থাকাকালীন একটি বড় নিয়োগ কেলেঙ্কারির বিষয় রয়েছে, যেখানে তিনি সাবেক নিবন্ধন মহাপরিদর্শকের (আইজিআর) স্বাক্ষর জাল করে অননুমোদিত নিয়োগপত্র জারি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী সংস্থা জানায়, এ ধরনের জালিয়াতি প্রমাণের জন্য সরকারি নথির ফরেনসিক হস্তলিপি পরীক্ষা করা প্রয়োজন, যা তদন্তকারী কর্মকর্তাকেই উদ্যোগ নিয়ে করতে হবে। একইভাবে, অবৈধ মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় অর্থ পাচারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সহযোগিতায় তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষেই যাচাই করা সম্ভব।

নিরাপত্তা শঙ্কা এবং প্রশাসনিক প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার প্রতিনিধি গত ১৩ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তার সামনে সশরীরে হাজির হতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরিবর্তে, সংস্থাটি তদন্তে সহায়তার জন্য তাদের কাছে থাকা সমস্ত প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত ও নির্দেশক সম্বলিত একটি বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছে।

এদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই তদন্তের নির্ভরযোগ্যতা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগগুলো যাচাই করার জন্য রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি ফাইলগুলো জব্দ করতে তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন কি না, তার ওপর।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন