ডার্ক মোড
Wednesday, 08 July 2026
ePaper   
Logo
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল মসজিদ নির্মাণে চরম অনিয়ম

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল মসজিদ নির্মাণে চরম অনিয়ম

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে স্থানীয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি, কাঠামোগত অনিয়ম এবং চরম পেশাগত অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ১৮ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের পাঁচ বছরের নির্মাণকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি প্রকৌশলীরা নির্মাণস্থলে প্রায় অনুপস্থিত ছিলেন, যার সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মান, স্থাপত্য নকশার সঠিক অনুসরণ এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তদারকি কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ছিল। একাধিক সূত্রের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত গণপূর্ত প্রকৌশলীরা বাধ্যতামূলক নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের পরিবর্তে ঠিকাদারের কাছ থেকে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের প্রশাসনিক ছাড় দিয়েছেন, যা এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত স্থায়িত্বকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে এ ধরনের চরম অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সতর্ক করে বলেন, বিশাল জামাত বা জনসমাগমের জন্য তৈরি একটি গণভবন নির্মাণে নিম্নমানের সিমেন্ট, নিচু মানের রড এবং অপরিশোধিত বালু ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের কাঠামোগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাঁচ বছরের দীর্ঘ নির্মাণ মেয়াদে গণপূর্তের কর্মকর্তারা পাঁচবারও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেননি, যা ঠিকাদারকে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ছাড়াই মনগড়াভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। তারা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে অবিলম্বে একটি স্বাধীন প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে ভবনের ভারবহন ক্ষমতা পরীক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দোষী প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন